ইরানের বিরুদ্ধে এক তরফা ভাবে আগ্রাসন চালানো এবং যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর মূল তহবিলগুলো একবারে খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে তোলার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট' এই খবর জানিয়েছে। বাজেট সংকটের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ কমাতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি বানচাল করার পর নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন। এতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা সামরিক খরচকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউজ ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে। তবে মার্কিন কংগ্রেসের অচলাবস্থার কারণে তা আটকে আছে। প্রতিনিধি পরিষদ এক মাসের ছুটিতে যাবে এবং অদূর ভবিষ্যতে এই অতিরিক্ত তহবিল পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র সেবা কমিটির রিপাবলিকান সদস্য প্যাট হ্যারিগান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'বিষয়টির দিকে সবার নজর দেওয়া উচিত এবং আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলা দরকার।'
পাশাপাশি পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি শন পার্নেল জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে যা করা দরকার তা-ই করবেন। হেগসেথ এবং যৌথ চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সেনেট কমিটির কাছে এই তহবিলের জোর দাবি জানাবেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ট্রাম্প ইসরাইলের সাথে মিলে একযোগে ইরানে বিমান হামলা শুরু করেন। ধারণা দেয়া হয়েছিল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু এই যুদ্ধ মাসের পর মাস ধরে চলছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও সার বাণিজ্যে ধস নেমেছে। হোয়াইট হাউজের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট জানান, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে আসল খরচ আরও অনেক বেশি, কারণ ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের খরচ এতে ধরা হয়নি।
দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের ফলে চলতি মাসের শেষেই মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ ফুরিয়ে যাবে। আগামী ১ অক্টোবর নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যক্রম সচল রাখতে পেন্টাগন অন্যান্য খাত থেকে টাকা সরিয়ে আনছে। এমনকি প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র কর্মসূচির ৪.৩ বিলিয়ন ডলার জরুরি খাতে হস্তান্তরের আবেদন করলেও কংগ্রেস তা এখনো অনুমোদন দেয়নি। ফলে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী ।



