২৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্ষত: ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি আনুষ্ঠানিকভাবে বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন-ইসরাইলে বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের অসংখ্য স্থাপনা
মার্কিন-ইসরাইলে বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের অসংখ্য স্থাপনা |সংগৃহীত

বিনা উসকানিতে চাপিয়ে দেয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের ৪০ দিনের যুদ্ধে এ অবধি ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার এবং এই বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ আদায়ে পারস্য উপসাগরীয় পাঁচ দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষতির হিসাবটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং যুদ্ধের এই আর্থিক ভয়াবহতার সংখ্যা সামনে আরো বাড়তে পারে।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বর্বরোচিত হামলায় ইরানের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা আদায়ের বিষয়টি তেহরান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, ৪৭ বছরের মধ্যে প্রথম ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার সরাসরি আলোচনাতেও ইরানের প্রতিনিধি দল যুদ্ধের এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছিল।

এদিকে, এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার নিতে আঞ্চলিক পাঁচটি দেশকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তেহরান।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির আন্তর্জাতিক বিভাগ জানিয়েছে, জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি আনুষ্ঠানিকভাবে বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে।

ইরাভানি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, এই দেশগুলো তাদের ভুল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করেছে এবং এর ফলে ইরানের যে বিপুল বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার পুরো ক্ষতিপূরণ এই পাঁচ দেশকে দিতেই হবে।

তেহরান মনে করছে, যেহেতু এই দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে হামলাকারীদের আবারো মদত দিয়েছে, তাই তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে ইরান এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই জোরদার করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের এই অবস্থান শুধু একটি আর্থিক দাবি নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা। যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে এসে তেহরান এখন আইনি ও কূটনৈতিক ফ্রন্টকে সামনে আনছে, যাতে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক জোটকেও চাপের মুখে ফেলা যায়। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মহলে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টাও—যেখানে ইরান নিজেকে হামলার শিকার রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইসরাইলকে ঘিরে সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক সীমারেখায় আটকে নেই। অর্থনীতি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের ময়দানেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই নতুন পর্যায়ে এসে যুদ্ধের হিসাব শুধু ক্ষয়ক্ষতির অঙ্কে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা রূপ নিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ে।