'ইরানি দ্বীপে স্থল হামলার কোনো সামর্থ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেই'

পাশাপাশি আমেরিকা মারাত্মক গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়েছে। উৎপাদিত প্রায় ছয় হাজার দুইশো প্যাক-থ্রি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলা হয়েছে, এখন হয়তো মাত্র দুইশোর মতো অবশিষ্ট আছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানি হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত
ইরানি হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত |সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন দ্বীপে স্থল অভিযান চালানোর মতো কোনো সামর্থ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এসব ব্যবহৃত অস্ত্র নতুন করে বানিয়ে পূর্ণ করতে বহু বছর লেগে যাবে। অন্যদিকে মার্কিন সরকার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিজেদের প্রাণহানি আর বিশাল খরচের আসল হিসাব জনগণের কাছে লুকিয়ে রাখছে।

ইরানের ছাত্র সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, একটি সাক্ষাৎকারে সাবেক এই সিআইএ বিশ্লেষক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী হুমকিকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এসব ফাঁকা হুমকির পেছনে বাস্তবসম্মত কোনো সামরিক পরিকল্পনাই নেই। দক্ষিণ ইরানে স্থল অভিযানের কিছু প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করে জনসন জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কেবল ওকিনাওয়া দখল করতে যুক্তরাষ্ট্রের লেগেছিল প্রায় এক লাখ নব্বই হাজার সেনা, আর সেই যুদ্ধ চলেছে তিন মাসেরও বেশি সময়।

খার্গ দ্বীপসহ ইরানের নানা দ্বীপে মার্কিন সেনারা কীভাবে প্রবেশ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতেই পারবে না। কারণ প্রণালীতে ঢোকার চেষ্টা করলেই সেগুলোতে চালানো হবে ইরানের কড়া আক্রমণ। ফলে জলপথে নামার সুযোগ বন্ধ থাকলে একমাত্র পথ থাকে আকাশপথে সেনা পাঠানো। অথচ একেকটি সি-ওয়ান থার্টি বিমানে মাত্র ৯২ জন সজ্জিত প্যারাশুট সেনা আর সি-সেভেন্টি বিমানে আনুমানিক ১২৬ জন মানুষ নেয়া সম্ভব। অঞ্চলে একসাথে কয়েকশো সেনা নামাতে পারে এমন কোনো বিমান আমেরিকার হাতে নেই।

ঐ অঞ্চলের ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জনসন বলেন, এই চরম পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাদল সামান্য কিছু সরঞ্জাম বহন করতে পারবে। আবার এই তীব্র গরমে পানির বিশাল চাহিদা মেটাতে রসদ জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এই ধরনের আত্মঘাতী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমেরিকা ফেরত যাবে শত শত মার্কিন সেনার লাশের কফিন।

সাক্ষাৎকারের অন্য অংশে এই গোয়েন্দা বিশ্লেষক বলেন, মার্কিন সরকার যুদ্ধে নিহত, আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করছে না। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার ঘটনায় আমেরিকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প যদি এখন স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। মার্কিন সেনা নিহতের বিষয়ে উপস্থাপকের মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে জনসন বলেন, অন্যায্য যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার শিকার এই সেনাদের কোনোভাবেই 'বীর' বলা চলে না। মার্কিন প্রশাসন সবসময়ই এসব প্রাণহানির আসল চেহারা গোপন করার পাঁয়তারা চালায়।

জনসনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগর এবং পরবর্তীতে জর্ডান থেকে মার্কিন সেনাদের তাড়ানো। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলো থেকে তাদের বেশিরভাগ বিমান সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এখন স্রেফ সৌদি আরবে কিছু জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং জর্ডানে সামান্য কিছু সরঞ্জাম অবশিষ্ট রয়েছে। এমনকি জর্ডানে নিরাপত্তার অভাব থাকায় তাদের প্রায় ২৫ কোটি ডলার মূল্যের ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন ইতালির ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইরান এখন ধাপে ধাপে আমেরিকার বিমান শক্তিকে নিশানা বানাচ্ছে। এসব সরঞ্জাম যদি ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত দখলকৃত ভূখণ্ডে নেয়া হয়, তবে ইরান সেখানেও হামলা চালাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানা হানার ক্ষমতা আগের সব হিসাব বদলে দিয়েছে বলে জানান তিনি। বিগত বারো দিনের যুদ্ধের সাথে বর্তমান যুদ্ধের মূল তফাত হলো, আমেরিকার তৈরি জিপিএস প্রযুক্তির বদলে ইরান এখন চীনা স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করছে। আগে আমেরিকা জিপিএস বিভ্রান্ত করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখ ঘুরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করত। কিন্তু এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা দেখে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।

পাশাপাশি আমেরিকা মারাত্মক গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়েছে। উৎপাদিত প্রায় ছয় হাজার দুইশো প্যাক-থ্রি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলা হয়েছে, এখন হয়তো মাত্র দুইশোর মতো অবশিষ্ট আছে। জর্ডানে সাম্প্রতিক হামলায় আসা মাত্র দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আমেরিকাকে অন্তত ১০টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়েছে, কিন্তু তার একটিও সফল হয়নি। এই সামান্য মজুত আবার মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও প্যাসিফিক কমান্ডের মধ্যে ভাগ করতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একেবারে নাজেহাল। হাইমার্স, টমাহক, জ্যাসম এবং হার্ম জাতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘটতিও মারাত্মক। এসব মারণাস্ত্র আবার তৈরির জন্য দরকারি দুর্লভ খনিজের ৯৪ শতাংশ ম্যাগনেট ও ৯১ শতাংশ কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর চীনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অর্থাৎ আমেরিকা এমন সব অস্ত্র উধাও করছে যা তারা সহজে বানিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারবে না।

যুদ্ধের প্রকৃত খরচ আমেরিকার সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। বিগত ১৮ মাসে মার্কিন ঋণ ৩৭ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন শোধনাগারগুলো প্রধানত ভারী অপরিশোধিত তেল শোধনের উপযোগী, যা এখন বন্ধ। কানাডা বা মেক্সিকোর তেল দিয়ে তা মেটানো যাচ্ছে না। তেল-জ্বালানির দাম বাড়ার সাথে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও পি-এইট পসাইডন বিমানের মতো দামি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় যুদ্ধের প্রকৃত খরচ আকাশ ছুঁয়েছে। মার্কিন কমান্ডাররা এখন শঙ্কিত যে এই যুদ্ধ বজায় থাকলে মার্কিন বিমান বাহিনীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে।

কথিত ইরানবিরোধী ও যুদ্ধবাজ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ক্ষতিকর চরিত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনসন জানান, ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে ইউক্রেনের টাকা লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং ইসরাইলের মাধ্যমে গ্রাহামের পকেটে ঢুকেছে। তিনি নিজের পকেট ভরতেই যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছেন। যদিও ট্রাম্পের সাথে গ্রাহাম এখন আর নেই, তবে স্টিভেন মিলার, জ্যাক কেইন ও কিথ ক্লুগের মতো বিভ্রান্তিকর উপদেষ্টারা এখনও ট্রাম্পের কান ভারী করছেন। তারা ট্রাম্পকে বোঝাচ্ছেন যে ইরান নাকি সহজে হার মেনে নেবে। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান এখন বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ করা, নিজেদের পারমাণবিক নীতি সংশোধন করা এবং এনপিটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আগেই ঘোষণা দিয়েছে, দরকার পড়লে তারা সৌদি তেলবাহী জাহাজও সেই প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে না।

ইরানের বিভিন্ন দ্বীপে স্থল অভিযান চালানোর মতো কোনো সামর্থ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এসব ব্যবহৃত অস্ত্র নতুন করে বানিয়ে পূর্ণ করতে বহু বছর লেগে যাবে। অন্যদিকে মার্কিন সরকার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিজেদের প্রাণহানি আর বিশাল খরচের আসল হিসাব জনগণের কাছে লুকিয়ে রাখছে।

ইরানের ছাত্র সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, একটি সাক্ষাৎকারে সাবেক এই সিআইএ বিশ্লেষক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী হুমকিকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এসব ফাঁকা হুমকির পেছনে বাস্তবসম্মত কোনো সামরিক পরিকল্পনাই নেই। দক্ষিণ ইরানে স্থল অভিযানের কিছু প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করে জনসন জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কেবল ওকিনাওয়া দখল করতে যুক্তরাষ্ট্রের লেগেছিল প্রায় এক লাখ নব্বই হাজার সেনা, আর সেই যুদ্ধ চলেছে তিন মাসেরও বেশি সময়।

খার্গ দ্বীপসহ ইরানের নানা দ্বীপে মার্কিন সেনারা কীভাবে প্রবেশ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতেই পারবে না। কারণ প্রণালীতে ঢোকার চেষ্টা করলেই সেগুলোতে চালানো হবে ইরানের কড়া আক্রমণ। ফলে জলপথে নামার সুযোগ বন্ধ থাকলে একমাত্র পথ থাকে আকাশপথে সেনা পাঠানো। অথচ একেকটি সি-ওয়ান থার্টি বিমানে মাত্র ৯২ জন সজ্জিত প্যারাশুট সেনা আর সি-সেভেন্টি বিমানে আনুমানিক ১২৬ জন মানুষ নেয়া সম্ভব। অঞ্চলে একসাথে কয়েকশো সেনা নামাতে পারে এমন কোনো বিমান আমেরিকার হাতে নেই।

ঐ অঞ্চলের ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জনসন বলেন, এই চরম পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাদল সামান্য কিছু সরঞ্জাম বহন করতে পারবে। আবার এই তীব্র গরমে পানির বিশাল চাহিদা মেটাতে রসদ জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এই ধরনের আত্মঘাতী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমেরিকা ফেরত যাবে শত শত মার্কিন সেনার লাশের কফিন।

সাক্ষাৎকারের অন্য অংশে এই গোয়েন্দা বিশ্লেষক বলেন, মার্কিন সরকার যুদ্ধে নিহত, আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করছে না। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার ঘটনায় আমেরিকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প যদি এখন স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। মার্কিন সেনা নিহতের বিষয়ে উপস্থাপকের মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে জনসন বলেন, অন্যায্য যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার শিকার এই সেনাদের কোনোভাবেই 'বীর' বলা চলে না। মার্কিন প্রশাসন সবসময়ই এসব প্রাণহানির আসল চেহারা গোপন করার পাঁয়তারা চালায়।

জনসনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগর এবং পরবর্তীতে জর্ডান থেকে মার্কিন সেনাদের তাড়ানো। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলো থেকে তাদের বেশিরভাগ বিমান সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এখন স্রেফ সৌদি আরবে কিছু জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং জর্ডানে সামান্য কিছু সরঞ্জাম অবশিষ্ট রয়েছে। এমনকি জর্ডানে নিরাপত্তার অভাব থাকায় তাদের প্রায় ২৫ কোটি ডলার মূল্যের ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন ইতালির ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইরান এখন ধাপে ধাপে আমেরিকার বিমান শক্তিকে নিশানা বানাচ্ছে। এসব সরঞ্জাম যদি ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত দখলকৃত ভূখণ্ডে নেয়া হয়, তবে ইরান সেখানেও হামলা চালাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানা হানার ক্ষমতা আগের সব হিসাব বদলে দিয়েছে বলে জানান তিনি। বিগত বারো দিনের যুদ্ধের সাথে বর্তমান যুদ্ধের মূল তফাত হলো, আমেরিকার তৈরি জিপিএস প্রযুক্তির বদলে ইরান এখন চীনা স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করছে। আগে আমেরিকা জিপিএস বিভ্রান্ত করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখ ঘুরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করত। কিন্তু এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা দেখে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।

পাশাপাশি আমেরিকা মারাত্মক গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়েছে। উৎপাদিত প্রায় ছয় হাজার দুইশো প্যাক-থ্রি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলা হয়েছে, এখন হয়তো মাত্র দুইশোর মতো অবশিষ্ট আছে। জর্ডানে সাম্প্রতিক হামলায় আসা মাত্র দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আমেরিকাকে অন্তত ১০টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়েছে, কিন্তু তার একটিও সফল হয়নি। এই সামান্য মজুত আবার মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও প্যাসিফিক কমান্ডের মধ্যে ভাগ করতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একেবারে নাজেহাল। হাইমার্স, টমাহক, জ্যাসম এবং হার্ম জাতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘটতিও মারাত্মক। এসব মারণাস্ত্র আবার তৈরির জন্য দরকারি দুর্লভ খনিজের ৯৪ শতাংশ ম্যাগনেট ও ৯১ শতাংশ কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর চীনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অর্থাৎ আমেরিকা এমন সব অস্ত্র উধাও করছে যা তারা সহজে বানিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারবে না।

যুদ্ধের প্রকৃত খরচ আমেরিকার সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। বিগত ১৮ মাসে মার্কিন ঋণ ৩৭ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন শোধনাগারগুলো প্রধানত ভারী অপরিশোধিত তেল শোধনের উপযোগী, যা এখন বন্ধ। কানাডা বা মেক্সিকোর তেল দিয়ে তা মেটানো যাচ্ছে না। তেল-জ্বালানির দাম বাড়ার সাথে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও পি-এইট পসাইডন বিমানের মতো দামি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় যুদ্ধের প্রকৃত খরচ আকাশ ছুঁয়েছে। মার্কিন কমান্ডাররা এখন শঙ্কিত যে এই যুদ্ধ বজায় থাকলে মার্কিন বিমান বাহিনীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে।

কথিত ইরানবিরোধী ও যুদ্ধবাজ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ক্ষতিকর চরিত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনসন জানান, ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে ইউক্রেনের টাকা লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং ইসরাইলের মাধ্যমে গ্রাহামের পকেটে ঢুকেছে। তিনি নিজের পকেট ভরতেই যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছেন। যদিও ট্রাম্পের সাথে গ্রাহাম এখন আর নেই, তবে স্টিভেন মিলার, জ্যাক কেইন ও কিথ ক্লুগের মতো বিভ্রান্তিকর উপদেষ্টারা এখনও ট্রাম্পের কান ভারী করছেন। তারা ট্রাম্পকে বোঝাচ্ছেন যে ইরান নাকি সহজে হার মেনে নেবে। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান এখন বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ করা, নিজেদের পারমাণবিক নীতি সংশোধন করা এবং এনপিটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আগেই ঘোষণা দিয়েছে, দরকার পড়লে তারা সৌদি তেলবাহী জাহাজও সেই প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে না।