ওমান উপকূলে একটি তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জাহাজটির দুই ক্রু সদস্য নিখোঁজ এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা অ্যামব্রে।
বুধবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হামলাটি ঘটেছে। অ্যামব্রের ধারণা, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
অ্যামব্রে জানিয়েছে, অতীতের অনুরূপ অভিযানে হামলার আগে জাহাজের ক্রুদের সামনের অংশে অবস্থান নিতে সতর্ক করা হতো এবং পরে জাহাজের পেছনের অংশে হামলা চালানো হতো। বর্তমান ঘটনাটিও সেই ধরনের হামলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি পৃথক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটিতে সম্ভাব্য মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কার ওমানের সোহার বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইঞ্জিন কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের খবর দিয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম সেটেবেল্লো। বিপদ সংকেত পাওয়ার পর ওমানের নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে সাড়া দেয়।
জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, সেটেবেল্লো আংশিক মালামাল বোঝাই অবস্থায় ছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন জাহাজটিকে ওমান উপকূলের কাছে শনাক্ত করা হয়েছিল।
রয়টার্সের তথ্যমতে, জাহাজটির পরিচালনায় ভারতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরসংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যক্রম শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ৮ জুন পর্যন্ত তারা সাতটি জাহাজ অচল করেছে, ১৩৪টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে এবং ৪২টি মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
এদিকে সোমবার ওমান উপসাগরে ম্যারিভেক্স নামের একটি খালি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকেও অচল করে দেওয়া হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটি অবরোধ অমান্য করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
সূত্র: রয়টার্স।



