হরমুজ প্রণালীতে ২ জাহাজে আইআরজিসির গুলি

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আইআরজিসি দু’টি বিদেশী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তেহরান বলছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের সমুদ্রসীমা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী |সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের আইনগত অধিকার ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে তেহরান। বুধবার সকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিজেদের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দু’টি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, কোনো উসকানি নয় বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই হরমুজ প্রণালীতে এই ‘আইনি প্রয়োগ’ চালানো হয়েছে।

তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী এই সরু নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তারা কাউকে ছেড়ে দেবে না।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বুধবার সকালে গ্রিক মালিকানাধীন একটি কন্টেইনার জাহাজকে আইআরজিসির একটি গানবোট থেকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। জাহাজটি ওমান উপকূলের কাছে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করছিল এবং কোনো সিগন্যাল দিচ্ছিল না। আইআরজিসি জাহাজটির মাস্টারকে চ্যালেঞ্জ করার পর নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেয়। এর কিছুক্ষণ পর ইরান উপকূলের কাছে আরেকটি কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং সেটিকে থামতে বাধ্য করা হয়।

উভয় ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ইরান মনে করছে, মার্কিন উসকানির মুখে এই নৌপথে চলাচলকারী বিদেশী জাহাজগুলোর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের নিরাপত্তার জন্যই অপরিহার্য।

এমন এক সময়ে তেহরান এই দৃঢ়তা দেখাল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বা ব্লকেড জারি রেখেছেন।

ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী নীতি এবং ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার চেষ্টার জবাবেই তেহরান আজ এই পাল্টা ব্যবস্থা নিল। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী অন্যায়ভাবে একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার পর আজকের এই অভিযান তেহরানের পক্ষ থেকে একটি কড়া বার্তা।

তেহরান বলছে, ট্রাম্পের অবরোধের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না এবং নিজেদের পানিসীমায় যেকোনো অনধিকার প্রবেশ তারা এভাবেই প্রতিহত করবে।

সূত্র : বিবিসি ও এনডিটিভি