ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। দেশটির ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সম্প্রতি মার্কিন হামলায় ইরানের এই পরমাণু কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রেসটিভির মাঠ পর্যায়ের তদন্ত এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি আলোচনার পর দেখা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভেতরে কোনো আঘাত লাগার প্রমাণ নেই।
গত শুক্রবার আল জাজিরা কিছু উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করে যে, ৭ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে বুশেহর পারমাণবিক কমপ্লেক্সের ভেতরে হামলার চিহ্ন দেখা গেছে। এর পরপরই প্রেসটিভি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগও করে। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই সময়ে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা পড়েনি।
প্রেসটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আল জাজিরার প্রকাশ করা উপগ্রহ চিত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে কোনো হামলার স্থান দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন হামলাগুলো মূলত পারমাণবিক স্থাপনার সীমানার বাইরে হয়েছিল। ছবিতে যে কালো দাগ দেখা যাচ্ছে, তা আসলে কমপ্লেক্সের মূল কার্যপদ্ধতি বা প্রশাসনিক এলাকার বাইরের একটি সাধারণ সবুজ চত্বর মাত্র। বর্তমানে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র সচল বাণিজ্যিক পারমাণবিক স্টেশন। এ কেন্দ্র রাশিয়ার তৈরি ১০০০ মেগাওয়াটের একটি চুল্লির মাধ্যমে ইরানের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বেসামরিক এই পরমাণু চুল্লিতে হামলার ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কায় সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনের সময় থেকেই কেন্দ্রটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, বুশেহরে যেকোনো বড় ধরনের হামলা হলে পারস্য উপসাগর জুড়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, কেন্দ্রটির আশেপাশের এলাকায় হামলা হলেও মূল চুল্লিটি সম্পূর্ণ নিরাপদে সচল রয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে অপরাধমূলক হামলা নতুন করে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী হরমুজগান প্রদেশের ছয়টি সেতু ধ্বংস করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তবে সব হুমকির মুখেও বুশেহর কেন্দ্রটি নিজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।



