দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি ও পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন রোববার (১২ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি জাহাজের ‘অবৈধ চলাফেরা’ রুখে দেয় ইরানি নৌবাহিনী। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ও যোগাযোগ টাওয়ারে বিমান হামলা চালায়।
জবাবে আইআরজিসি প্রথম দফায় জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। দ্বিতীয় দফায় কাতারের কৌশলগত আল উদাইদ বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মার্কিন ফাইটার জেটের রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংসের দাবি করেছে তারা। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ‘অপরাধী জাহাজ’ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় দফায় ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জ্বালানি প্ল্যাটফর্ম ও লজিস্টিক সেন্টারে ভারী হামলা চালানো হয়।
পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের ডিপো ও রাডার সাইট এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার সাইটে এই ড্রোন আঘাত হেনেছে। হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পরবর্তী পদক্ষেপের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম (সেন্ট্রাল কমান্ড) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, চলতি সপ্তাহে এটি ছিল তাদের তৃতীয় দফার হামলা। স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথ থেকে নির্ভুল গোলাবারুদ ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সাইট, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ ও উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তিন রাতের এই অভিযানে মোট ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কমান্ড আরও দাবি করেছে, মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও ৪০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করেছে এবং এই চলাচল এখনো সচল রয়েছে। এই দিপক্ষীয় উত্তেজনায় পুরো অঞ্চলে চরম সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।



