ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র এক দিন পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, মধ্যরাতের পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের এক ডজনেরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলার বেশির ভাগই নাবাতিয়েহ ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হয়।
সংস্থাটি আরো জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাবাতিয়েহ শহর ও এর উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণও করেছে।
এনএনএ’র খবরে বলা হয়, আরব সালিম শহরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। দেইর জাহরানিতে নিহত হয়েছে আরো একজন।
এছাড়া দুয়েইর শহরের প্রবেশমুখে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরো একজন নিহত হয়।
শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইসরাইল ও ইরানের সাথে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এক উপসাগরীয় কূটনীতিকও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত বলেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চললে, ইসরাইলও যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা।
ওই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার জানায়, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। একইসাথে তারা দাবি করে, লেবাননে ১৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়ে ‘ডজনখানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে’ হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেন, ইসরাইলের সাথে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে, একটি সর্বাত্মক ও টেকসই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত প্রয়োজন।
সূত্র : এএফপি/বাসস



