কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, উপগ্রহচিত্রে ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ

যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি আড়াল করার চেষ্টা করলেও ইরান শুরু থেকেই তাদের সফলভাবে লক্ষ্যে আঘাতের কথা বলে আসছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আস সালেম বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট চিত্র
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আস সালেম বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট চিত্র |ইন্টারনেট

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া নতুন কিছু ছবিতে মার্কিন ঘাঁটির ভেতরে একটি আশ্রয়শিবির সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার মিডলইস্ট আই এই খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অবশ্য এর আগে দাবি করেছিল যে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আসা ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ভূস্থানিক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘সোয়ার অ্যাটলাস’ যে নতুন ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টকমের এই দাবির সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন ‘আলি আস সালেম বিমানঘাঁটি’র চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে এবং মাটির বুকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের একাধিক বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি আড়াল করার চেষ্টা করলেও ইরান শুরু থেকেই তাদের সফলভাবে লক্ষ্যে আঘাতের কথা বলে আসছিল।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে তার সবকটিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের দিকে আসা দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ভেঙে পড়েছিল এবং বাহরাইনের দিকে যাওয়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাথে সাথে রুখে দেয়।

এদিকে, কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবারই নিশ্চিত করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এক নিরীহ ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ৬০ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

কুয়েতে বিমানবন্দর থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এক নম্বর টার্মিনালে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে, ছাদ ধসে পড়েছে এবং চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে আছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আল-ওতায়ান এই ঘটনাকে অপরাধমূলক ইরানি আগ্রাসন বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

হামলার পর এই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বাগবিতণ্ডা আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। ইরান বুধবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কুয়েত বিমানবন্দরে যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যাচ্ছে, তা আসলে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল আঘাতের ফল। মার্কিন সেন্টকম অবশ্য সাথে সাথেই ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে।

ইরানের তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তারা কুয়েত বিমানবন্দর লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি। তাদের নিশানা ছিল কেবল মার্কিন সামরিক স্থাপনা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে যে ইরান অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং অন্যায়ভাবে বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল।

সূত্র: মিডলইস্ট আই