যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

আবার শুরুর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উদ্যোগ, ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণার পরই এই নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সুইজারল্যান্ডে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ
সুইজারল্যান্ডে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ |সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে যাওয়া প্রত্যক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু করতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীদের সুবিধাজনক সময়ে দ্রুত ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি। আল জাজিরা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুদেশের মধ্যে আবার আলোচনার পথ সুগম করতে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে টেলিফোনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি সূত্র বার্তা সংস্থা আনাতোলুকে জানিয়েছে, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক পৃথকভাবে তেহরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী বাকের গালিবাফকে পাকিস্তান সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা কবে নাগাদ ইসলামাবাদ সফরে আসবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণার পরই এই নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলো তাকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে। কারণ একটি সমঝোতা বা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই সোমবার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনায় লিপ্ত নেই।

এর আগে সোমবার সরকারি সূত্রগুলো আনাতোলুকে জানায়, দুই চিরপ্রতীদ্বন্দ্বী পক্ষের দীর্ঘদিনের স্তব্ধ হয়ে থাকা মুখোমুখি বৈঠক আবার শুরু করার জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান চূড়ান্ত করা হয়নি। সূত্রগুলো আরও নিশ্চিত করেছে যে, আলোচনা শুরুর তারিখ ও স্থান ঠিক করতে পাকিস্তান এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়শিংটন ও তেহরানের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল—৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে গত মাসে শুরু হওয়া নতুন সংঘাত ও শত্রুতার কারণে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।