গাজায় ওষুধের অভাবে রোগীরা মরছেন

বচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ক্যান্সার এবং হেমাটোলজি অর্থাৎ রক্ত সংক্রান্ত রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে। এই খাতের প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি ইতিমধ্যেই ৬১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গাজা: ওষুধের জন্য রোগীর অন্তহীন প্রতীক্ষা(ফাইল ছবি)
গাজা: ওষুধের জন্য রোগীর অন্তহীন প্রতীক্ষা(ফাইল ছবি) |সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় দরকারি ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট ইচ্ছা করে তৈরি করা হচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমন ঘাটতির কারণে সেখানে তৈরি হয়েছে এক 'নীরব মহাবিপদ', যা প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে গাজার সাধারণ রোগীদের প্রাণ।

আল জাজিরা সোমবার (৩ আগস্ট) জানায়, সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ক্যান্সার এবং হেমাটোলজি অর্থাৎ রক্ত সংক্রান্ত রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে। এই খাতের প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি ইতিমধ্যেই ৬১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ওষুধ না থাকায় ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি থমকে গেছে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ার চূড়ান্ত ঝুঁকিতে রয়েছেন রোগীরা।

পুরো গাজায় সার্বিক ওষুধের ঘাটতি এখন ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত দরকারি জিনিসপত্রের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে। ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত, যা রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় থেরাপি দেওয়ার সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম করেছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের ওষুধের ঘাটতি ৫৬ শতাংশ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওষুধের ঘাটতি ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। হাড়ের চিকিৎসা বা অর্থোপেডিক সামগ্রীর ঘাটতি ৪৭ শতাংশ, কিডনি রোগ ও ডায়ালিসিসের ওষুধের ঘাটতি ৪৬ শতাংশ, অস্ত্রোপচার বা সার্জারি সামগ্রীর ঘাটতি ৩৯ শতাংশ, মানসিক স্বাস্থ্য ও নিউরোলজি বা স্নায়ুর চিকিৎসায় ওষুধের ঘাটতি ৩৫ শতাংশ এবং জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের ওষুধের ঘাটতি ৩৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।