মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে এখন পুরো বিশ্বের প্রধান সব জ্বালানি কেন্দ্র ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানে, তাদের আরব মিত্র দেশ এবং ইসরাইলে অবস্থিত কৌশলগত তেল ও গ্যাস অবকাঠামো ইরানি নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক মিসাইলের একদম হাতের নাগালে। ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের সাউথ পার্স কেন্দ্র আক্রান্ত হলে তেহরান কাতারের প্রধান গ্যাস শোধনাগারে হামলা চালায়। ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, 'এমন ঘটনা আর ঘটবে না।' কিন্তু বর্তমানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অচল করে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা শনিবার (১ আগস্ট) আরো জানিয়েছে, ইরানের চোখ এখন কয়েকটি অতিসংবেদনশীল কৌশলগত সরবরাহ পথের দিকে, যে সব লক্ষ্যে আঘাত হানলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। সৌদি আরবের তেলের মূল ভিত্তি 'গাওয়ার' তেলক্ষেত্র, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ‘আবকাইক’ ও ‘খুরাইস’ শোধনাগার দিয়ে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত হয়। আবকাইকে ক্ষতি হওয়া মানে বৈশ্বিক সরবরাহ, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সুপেয় পানি শোধন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'জাকুম' সামুদ্রিক তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি খনিজ তেল রপ্তানি হয়, যার সাথে যুক্ত রয়েছে 'রুওয়াইস' শোধনাগার। বিশ্ব গ্যাসের ২৫ শতাংশ মজুদ রয়েছে কাতারের 'নর্থ ডোম' গ্যাসক্ষেত্রে এবং দেশটির 'রাস লাফান' থেকে বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়।
কুয়েতের 'বুর্গান' তেলক্ষেত্র অবরুদ্ধ হলে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে বাহরাইনের 'সিত্রা' শোধনাগার ও 'আল-মামির' স্থাপনা অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এমনকি ইসরাইলের মূল জ্বালানি উৎস 'লেভিয়াথান' এবং 'তামার' গ্যাসক্ষেত্র দুটিও এখন সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় রয়েছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিমানমহাকাশ বা অ্যারোস্পেস ফোর্সের এই নিখুঁত নিশানা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এতে হরমুজ প্রণালীকেন্দ্রিক বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম শঙ্কায় পড়েছে।



