জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও উপ-প্রতিনিধি গোলাম হোসেইন দারজি দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দারজি লিখেছেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি শহরে নতুন করে আগ্রাসন ও সামরিক হামলা শুরু করে। এ সময় হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কোহেস্তাক এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হয়, যখন সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানান, এই নৃশংস হামলায় শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।
চিঠিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের—বিশেষ করে শিশুদের—ইচ্ছাকৃত ও নির্বিচারে হত্যা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়া যায় না কিংবা শুধু ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতি’ হিসেবে এর দায় এড়ানো যায় না। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। এই দায়িত্বের গুরুতর ও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
দারজি বলেন, আমেরিকা এবং অন্য যেকোনো রাষ্ট্র বা পক্ষ, যারা কোনোভাবে এসব লঙ্ঘন ও আমেরিকার অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটনে সহায়তা, সমর্থন বা অংশগ্রহণ করছে, তারাও এসব আন্তর্জাতিকভাবে বেআইনি কর্মকাণ্ডের গুরুতর পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে। এর মধ্যে ইরানের জনগণের ওপর সংঘটিত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দায়ও অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র : পার্সটুডে



