ইরানে আবারও রাতভর সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি শহরে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম তেহরানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পারচিন ও পাকদাশ্ত এলাকায় প্রথম বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। পাকদাশ্তের গভর্নরও বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার দিবাগত রাতেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেন্টকম নতুন হামলার ঘোষণা দেয়ার পর আহভাজ, চাবাহার, বন্দর আব্বাস, রাস্ক ও কোনারাকে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানি গণমাধ্যম।
মেহর নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, আহভাজে একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের কাছাকাছি হামলা হলে নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালটি খালি করে নেয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের কাছেও হামলা চালানো হয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাস্ক শহরের নিকটবর্তী এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময়ে কোনারাক শহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এসব হামলার পর বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম আরো জানায়, বন্দর আব্বাসসহ একাধিক স্থানে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে প্রায় ৯০ মিনিটের পৃথক অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থানেও হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এদিকে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসনের একটি কূটনৈতিক কাঠামো থাকলেও দুই দেশই পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু



