অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করাকে যেন একটা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করেছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও ইসরাইলি বাহিনির হত্যাকাণ্ড কমেনি। গত ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় আরও ২৭৪ জন নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ শুক্রবার এই রোমহর্ষক তথ্য ফাঁস করেছে।
মিডলইস্ট মনিটর জানিয়েছে, পত্রিকাটি স্পষ্ট করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত ইসরাইলের বর্বর হামলায় ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ইসরাইলের এই আগ্রাসনে বরাবরের মতোই অন্ধ সমর্থন দিয়ে উসকানি জুগিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ওপর মার্কিন সমর্থিত এই ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান।
হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের সিংহভাগই প্রাণ হারিয়েছে ইসরাইলের কাপুরুষোচিত বিমান হামলায়। এর বাইরে অনেক শিশুকে স্নাইপারের গুলিতে, ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা দিয়ে কিংবা বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে ঝাঁঝরা করে মারা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইসরাইলি অবরোধের কারণে গাজার চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে বোমার আঘাত থেকে বেঁচে যাওয়া অনেক শিশু চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে। আবার অনেক অবোধ শিশু মারা গেছে তীব্র ক্ষুধা ও মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে। তবে এই ধুঁকে ধুঁকে মারা যাওয়া শিশুদের সংখ্যা কিন্তু গাজার সরকারী নিহতের তালিকায় যুক্তই করা হয়নি।
দখলদার ইসরাইলি বাহিনী গাজাকে এক জীবন্ত নরকে পরিণত করেছে। সেখানকার চরম মানবিক সংকট তুলে ধরে হারেৎজ জানিয়েছে, গাজার ঘরবাড়িগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপ হয়ে পড়ে আছে। প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এখনো বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও পয়োনিষ্কাশনহীন তাঁবুর মানবেতর জীবনে বন্দি। তাঁবুগুলোর ভেতরে তীব্র গরম আর নির্মম পরিস্থিতির মধ্যে ইঁদুর ও মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। সেই সাথে দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রামক ব্যাধি। ত্বকের মারাত্মক প্রদাহ ও সংক্রমণে ভুগছে হাজার হাজার মানুষ।
এদিকে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশকারা পেয়ে ইসরাইল তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় আরও ১,১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৬৪৩ জন আহত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরাইলের চালানো এই নারকীয় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৩,২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৩,৭৫১ আহত হয়েছে। এছাড়া ইসরাইলি বোমাবর্ষণের মধ্য দিয়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করে দেওয়া হয়েছে।



