ইসরাইলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ক্রুজ মিসাইল হামলা

বৈরুতের গোপন বৈঠকের তীব্র প্রতিবাদ

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ
ইসরাইলি ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ |সংগৃহীত

লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের ৪৩ দিন পেরিয়ে গেলেও ইসরাইলি বাহিনীকে একের পর এক চমক দিচ্ছে হিজবুল্লাহ। এবার দখলকৃত উত্তর ফিলিস্তিনের মাসকাভ-আম ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে লেবানের ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধারা।

ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি আরো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি অবস্থানের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট ৩৫টি বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।

এদিকে, যুদ্ধের ময়দানে যখন সঙ্ঘাত তুঙ্গে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন ও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের খবরে লেবাননের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। হিজবুল্লাহ এই বৈঠককে একটি ‘ঐতিহাসিক পাপ’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছে যে, ইসরাইল আসলে লেবাননে গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর ষড়যন্ত্র করছে।

আল-ইলাম আল-হারবি সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো মাসকাভ-আম ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

হিজবুল্লাহর রিসোর্স ও বর্ডার ফাইল বিভাগের প্রধান নওয়াফ আল-মুসাভি বলেন, ওয়াশিংটনে ইসরাইলি প্রতিনিধির সাথে লেবাননের রাষ্ট্রদূতের এই আলোচনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তার মতে, কোনো ধরনের সুবিধা আদায় ছাড়াই শত্রুর সাথে এভাবে বসলে তারা আরো পেয়ে বসবে। ইসরাইলের মূল লক্ষ্য হলো আলোচনার ফাঁদে ফেলে লেবাননের ভেতরে হিজবুল্লাহর সাথে একটি অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত তৈরি করা।

তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরাইলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া, দখলদারদের প্রত্যাহার এবং লেবাননের বন্দীদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।

একইভাবে লেবাননের আমাল মুভমেন্টও এই সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে জানিয়েছে, ইসরাইলের সাথে এমন গোপন বৈঠক কেবল দেশদ্রোহিতার শামিল।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আবারো নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তারা লেবাননের ভেতরে শান্তি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।