সপ্তাহান্তে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইরানি রাডার ও ড্রোন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে এই হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মার্কিন একটি ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এই হামলায় ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দু’টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসন পুরো অঞ্চলের আকাশকে এক মুহূর্তে অশান্ত করে তুলেছে, যার রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী কুয়েতেও।
অপরদিকে মার্কিন এই হামলার পরপরই কুয়েত জুড়ে আচমকা বেজে ওঠে বিপদ সঙ্কেতের সাইরেন। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে বেশ কয়েকটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে।
এ ব্যাপারে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি কোনো সাধারণ হামলা ছিল না, বরং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের একটি জুতসই ও পাল্টা জবাব।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে আইআরজিসি’র এই পাল্টা হামলার খবরটি প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টার দিকে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনী।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে ইরানের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে প্রথম বোমাবর্ষণ করেছিল মার্কিন বাহিনী। সেই আগ্রাসনের ঠিক এক ঘণ্টার মাথায়, যে ঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমানগুলো উড়ে এসেছিল, ঠিক সেই বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। হামলায় মার্কিন ঘাঁটিটির পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের যদি আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটে। তবে এর পরের জবাব হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আরো ভয়াবহ। এই সংঘাতের সমস্ত দায় মার্কিন এই আগ্রাসী প্রশাসনকেই নিতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা, ইরনা



