১৪ দফা প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান

পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের ১৪ দফার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব হাতে পেয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে আসা সেই উত্তর এখন বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখছে ইরান সরকার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের পতাকা
ইরানের পতাকা |সংগৃহীত

পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের ১৪ দফার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব হাতে পেয়েছে ইরান। রোববার (৩ মে) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে আসা সেই উত্তর এখন বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখছে ইরান সরকার।

তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে পরমাণু ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। অর্থাৎ ইরান আগে অন্য সঙ্কটগুলোর সমাধান চায়।

তেহরান থেকে ওয়াশিংটনকে যে ১৪ দফা দাবি দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের অবরোধ তুলে নেয়া, আটকে রাখা অর্থ ফেরত দেয়া এবং লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে আসা।

এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী বিপ্লবী গার্ডস বা আইআরজিসি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তাদের গোয়েন্দা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সামনে এখন মাত্র দু’টি পথ খোলা। হয় তাকে একটি ‘অসম্ভব’ যুদ্ধের পথে নামতে হবে, নতুবা ইরানের সাথে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ করতে হবে।

আইআরজিসি বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সঙ্কটে আছে এবং তাদের হাতে সময় খুব কম। ইরান ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনীকে তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই ইরানের পক্ষে যে ইউরোপ, চীন এবং এমনকি রাশিয়াও ওয়াশিংটনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করছে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি সম্ভাব্য চুক্তির ধারণা সম্পর্কে জেনেছেন এবং চূড়ান্ত খসড়া হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তবে মিয়ামি যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যদি ‘বেয়াদবি’ করে তবে আবারো দেশটিতে হামলা চালানো হতে পারে। তিনি সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী সাগরে অনেকটা ‘জলদস্যুদের’ মতোই আচরণ করছে।

কয়েকদিন আগে একটি ইরানি জাহাজ এবং তার তেল দখল করার ঘটনাকে তিনি বেশ ‘লাভজনক ব্যবসা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও তিনি মানবিক দিক বিবেচনায় যুদ্ধ চান না বলে দাবি করেছেন, কিন্তু নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে তিনি বেশ চাপে আছেন।

পাল্টা জবাবে ইরানের সামরিক সদর দফতরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করার কোনো কারণ নেই, কারণ তারা কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, শত্রুর কল্পনার বাইরেও অনেক ‘চমক’ ইরানের কাছে তৈরি আছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার উপকূল জুড়ে ইরানের যে কর্তৃত্ব রয়েছে, তা ব্যবহার করে ওই অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার শপথ নিয়েছে আইআরজিসি।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, পরমাণু আলোচনা হবে অনেক পরে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন