হামাস-ইসরাইলের চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় উচ্ছ্বাস

অনেকেই আশা করছেন, এটি হয়তো ইসরাইলি হামলা থেকে প্রথম সত্যিকারের বিরতির সূচনা করবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা নিয়ে ঘোষিত ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরাইল ও হামাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণায় অবিরাম গোলাবর্ষণ ও ক্ষুধায় বিপর্যস্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্বস্তি ও উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে।

চুক্তির খবর অবরুদ্ধ উপত্যকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তেই দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে উদযাপন শুরু করেন। অনেকেই আশা করছেন, এটি হয়তো ইসরাইলি হামলা থেকে প্রথম সত্যিকারের বিরতির সূচনা করবে। ছয় মাসেরও বেশি আগে ইসরাইল একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেয়ার পর থেকে গাজায় হামলা অব্যাহত ছিল।

গাজার বাসিন্দা আব্দুল মাজিদ আবদ রাব্বো আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতির জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। রক্তপাত ও হত্যার অবসান হবে-এতেই গাজার সবাই খুশি।’

গাজার আরেক বাসিন্দা খালেদ শাত বলেন, ‘এই মুহূর্তগুলো ঐতিহাসিক, ফিলিস্তিনি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে এমন মুহূর্তের প্রতীক্ষা করে আসছে। কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় আমরা যে উচ্ছ্বাস দেখেছি তা হলো হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্তির আনন্দ।’

গাজার আল জাজিরা সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেন, অবরুদ্ধ অঞ্চলের যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির নিঃশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত- আর ব্যক্তিগতভাবে, ভীষণ স্বস্তিরও।’

মাসের পর মাস ধরে ইসরাইলের কঠোর অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের মধ্যে সবার দৃষ্টি এখন কবে মানবিক সহায়তা, খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আবার বিতরণ শুরু হতে পারে তার দিকে।

বুধবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি দুই বছরের যুদ্ধের অবসানের জন্য একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের সাথে সম্পর্কিত। প্রথম পর্যায়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে গাজায় আটক বাকি ইসরাইলি পণবন্দীদের মুক্তি দেয়া হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজায় নতুন নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে। তবে এই পর্যায়ের আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা