বিনামূল্যে এআই চ্যাটবট চালুর পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার

নতুন আইনে জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিচিতি চিহ্নিত করার বাধ্যবাধকতা, মানুষের শারীরিক নিরাপত্তা বা মৌলিক অধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন এআই ব্যবস্থার জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও এ খাতে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিদেশী প্রযুক্তি নির্ভরতা কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া চলতি বছর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিনামূল্যের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট সেবা চালুর পরিকল্পনা করেছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াইজঅ্যাপ-রিটেইলের তথ্য অনুযায়ী, ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দক্ষিণ কোরিয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় অর্ধেক মানুষ জেনারেটিভ এআই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই দ্বারা তৈরি চ্যাটজিপিটি।

প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন দেশ তথাকথিত ‘এআই সার্বভৌমত্ব’ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। নিজেদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় দেশীয় এআই মডেল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার এএফপিকে জানান, সরকারি উদ্যোগের আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ ব্যবহারের উপযোগী একটি এআই চ্যাটবট ও আরো জটিল কাজ করতে সক্ষম একটি এআই এজেন্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞানমন্ত্রী বে কিয়ং-হুন সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যবহারকারীদের বর্তমানে অর্থ দিয়ে ব্যবহার করা বিদেশী এআই সেবা থেকে সরিয়ে আনতে হলে, আমাদের অধিকতর উন্নত সেবা দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত এআই এজেন্টের যুগে প্রবেশ করুক এবং এই ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করুক।’

মন্ত্রী জানান, সরকারের ‘এআই ফর অল’ প্রকল্পের প্রথম অগ্রাধিকার হলো এমন সরকারি এআই এজেন্ট সেবা চালু করা, যা বর্তমানে বিদ্যমান বিদেশী প্ল্যাটফর্মে নেই এমন সুবিধা দেবে।

তিনি বলেন, অনেক বিদ্যমান এআই মডেল ব্যবহারে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়। বিনামূল্যে এআই সেবা দেয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে সরকারের।

২০২৭ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ব্যক্তিগত সহায়তাকারী এআই এজেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এসব এআই ব্যবহারকারীদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা সহায়তা ও অবসর পরিকল্পনার মতো কাজে সহযোগিতা করবে।

প্রেসিডেন্টের নীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব কিম ইয়ং-বিওম মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বিনামূল্যে দেশীয় এআই সেবা চালু করলে, ব্যবহারকারীরা কোরিয়ান প্ল্যাটফর্ম গ্রহণে উৎসাহিত হবে। এতে চাহিদা ও তথ্যের পরিমাণ বাড়বে এবং দেশের এআই বাজার নিজস্বভাবে বিকশিত হতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, সরকারি এআই এজেন্ট দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা চিহ্নিত করা ও সেগুলোর জন্য আবেদন করতেও সহায়তা করতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন এআই মৌলিক আইন মঙ্গলবার কার্যকর হওয়ার পর এই উদ্যোগ নেয়া হলো। এর মাধ্যমে দেশটির এআই খাতের জন্য একটি জাতীয় আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

নতুন আইনে জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিচিতি চিহ্নিত করার বাধ্যবাধকতা, মানুষের শারীরিক নিরাপত্তা বা মৌলিক অধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন এআই ব্যবস্থার জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও এ খাতে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে পারমাণবিক শক্তি, অপরাধ তদন্ত, ঋণ অনুমোদন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ ১০টি সংবেদনশীল ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নিয়ম মানতে হবে।