মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এশিয়ার অর্থনীতিতে এ বছর ও আগামী বছর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে সঙ্ঘাত দীর্ঘমেয়াদি হলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত গড়ালে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৭ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
এডিবির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ‘উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশিভাগ দেশের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এ বছর ও ২০২৭ সালে আরো খারাপ হবে।’
সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেন, মূলত জ্বালানি আমদানি নির্ভর হওয়ায় এ অঞ্চলটি যুদ্ধের প্রভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আরো বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়লে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।’
আলবার্ট পার্ক বলেন, ‘জ্বালানির দাম স্বাভাবিক হলেও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির কারণে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’
এডিবি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত দীর্ঘ হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও মার্চে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।
অ্যালবার্ট পার্ক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা চাপের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়ছে।’
তার ভাষায়, ‘চালের দাম এখনো তুলনামূলক কম থাকলেও সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এতে প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবহার কমে ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’
এদিকে শুক্রবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার বিভিন্ন এলাকায় দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সরকারি কর্মসূচির আওতায় মাত্র ২০ পেসো (৩৩ সেন্ট) কেজিতে চাল পেতে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ।
এডিবির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও আবাসন খাতের চলমান স্থবিরতা এবং রফতানি প্রবৃদ্ধির কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের প্রবৃদ্ধি এ বছর ৫ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস



