শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দুই মাদকচক্রের বন্দীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক।
দেশটিতে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার সংঘর্ষ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে রোববার (৫ জুলাই) রাত থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের বন্দীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আহত বন্দী ও কারারক্ষীদের দ্রুত নেগোম্বো জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়।
নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের লাশ আনা হয়েছে। এছাড়া আহত শতাধিক বন্দী ও কারারক্ষী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আহতদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’
কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় নেগোম্বো কারাগারে এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। প্রায় ১০ হাজার বন্দী ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে অনেক বেশি বন্দী রয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডো মোতায়েন করা হলেও তাদের কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়নি।
সোমবার কারাগারের বাইরে বিপুলসংখ্যক বন্দীর স্বজন জড়ো হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, তারা গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ ড্রোনও ব্যবহার করেছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চারজন কারারক্ষী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’
এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ মহামারির সময় শ্রীলঙ্কার আরেকটি কারাগারে সংঘর্ষে ১১ বন্দী নিহত এবং ১১৭ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর অতিরিক্ত বন্দীর চাপ কমাতে সরকার শত শত বন্দীকে মুক্তি দিয়েছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দী ছিলেন, যা দেশটির কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।
সূত্র: বাসস



