ইরানের সাথে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এ তীব্র খাদ্য ও রসদ সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সাড়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা সাগরে থাকায় বিমানবাহী এই রণতরীটির পাঁচ হাজার নৌসেনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিকেই বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে চালানো ইরানের এই হামলায় ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত প্রধান লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যায়।
বাহরাইন ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর পেন্টাগন অল্টারনেটিভ পরিকল্পনা হিসেবে মালদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ ডিগো গার্সিয়ার ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ওমান উপসাগরে যুদ্ধরত দুটি বিমানবাহী রণতরী থেকে প্রায় ২,২০০ মাইল দূরে এই দ্বীপটি অবস্থিত। বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে থাকায় এই দূরবর্তী দ্বীপ ব্যবহার ছাড়া মার্কিনদের বিকল্প ছিল না। দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সময়মতো রসদ পৌঁছাতে না পারায় বিমানবাহী রণতরীতে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
এই চরম রসদ সংকট ও নৌসেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে নাবিকদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি মাইক লেভিনও প্রকাশ করেছেন নাবিকদের পরিবারের চরম উদ্বেগের কথা।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী 'লিংকন' খুব শিগগিরই দেশে ফিরবে এবং সেটির স্থলাভিষিক্ত করা হবে 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন'-কে। মার্কিন রণতরীগুলোর মোতায়েন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জবাব দেন, 'না, এটি মোটেও বেশি দীর্ঘ নয়।' প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ রাখার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডিগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১ মার্চ সীমিত প্রতিরক্ষামূলক কাজের কথা বলে তিনি অনুমতি দেন। ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা বা অন্যান্য সূত্র মতে, মার্কিন বাহিনীর ব্যবহারের কারণে গত ২০ মার্চ ইরানও এই দ্বীপ লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।



