ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শেয়ার বাণিজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে শেয়ার বাজারে বড় ধরনের লেনদেনের তথ্য ফাঁসের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে ট্রাম্পের ছেলে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে শেয়ার বাজারে বড় ধরনের লেনদেনের তথ্য ফাঁসের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে ট্রাম্পের ছেলে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) ডেমোক্র্যাটরা এই অভিযোগ তোলেন।

সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় বিপর্যয়।’

ওয়ারেন মূলত এনভিডিয়ার শেয়ার কেনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) ব্যবহৃত উন্নত চিপ তৈরি করে।

ওয়ারেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এনভিডিয়াকে চীনের কাছে পণ্য বিক্রির অনুমতি দিয়েছিলেন। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়।

তিনি আরো লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এনভিডিয়ার সিইও-কে তার সাথে চীন সফরে নিয়ে গিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উন্নত এআই চিপ কেনার জন্য প্রভাবিত করতে। অথচ এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারত। এখন দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প নিজেই এনভিডিয়ার লাখ লাখ শেয়ার কিনেছেন।’

তবে প্রেসিডেন্টের ছেলে এরিক ট্রাম্প অনিয়মের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি তার ভাই ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাথে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন।

এরিক ট্রাম্প এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের সমস্ত সম্পদ বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্লাইন্ড ট্রাস্টে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের কোনো সদস্যের ইচ্ছায় একক কোনো শেয়ার কেনা বা বেচা হয় না।’

এরিক ট্রাম্প সরকারের কোনো পদে নেই। তবুও এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের চীন সফরে তিনি সাথে ছিলেন। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংও ওই সফরে অংশ নেন।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প তার পারিবারিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুই ছেলের হাতে তুলে দেন।

এর আগে তিনি তার পরিবারের বিদেশী বিনিয়োগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, এবার তা আর নবায়ন করেননি। সম্প্রতি ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জর্জিয়ার তিবিলিসিতে একটি হোটেল কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।

তাছাড়া, নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রেসিডেন্ট নিজেও এই বিতর্কের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে প্রকাশিত নথিতে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে অ্যামাজন, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও বোয়িং-এর মতো শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

আর্থিক সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

সূত্র: বাসস