দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এ ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না গেলেও বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমার এলাকায় ৭.৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এ দুই ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গুরুতর হতে পারে এবং প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে বারিনাস রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি উইলমার আজুয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু অংশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে এবং আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে দেখা গেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে রাজধানীর এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় মুহূর্তের মধ্যে ভবনের অংশবিশেষ ভেঙে পড়তে শুরু করে। দেয়ালের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ছাদ থেকে বিভিন্ন সামগ্রী নিচে পড়ে। তিনি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।
তবে এখন পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
আল জাজিরার খবরে আরো বলা হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন ।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি



