এক চুমুক কফিতে দিনের শুরু না হলে অনেকেরই চলে না। কিন্তু কফি বানানো বা চাষ করা নিয়ে যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে বসে কেউ, তা হলে?
ঠিক এমনটাই ঘটেছে কফির দেশ কলম্বিয়ায়। উচ্চশিক্ষা আর কৃষির মেলবন্ধনে এক দারুণ কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে দেশটির হুইলা প্রদেশ।
লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম চালু হতে যাচ্ছে একদম বিশেষায়িত ‘কফি ইউনিভার্সিটি স্কুল’। যেখানে শুধুই কফি নিয়ে পড়াশোনা, গবেষণা আর নিত্যনতুন উদ্ভাবনের কাজ চলবে।
আজ রোববার ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা এই চমকপ্রদ খবর জানিয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং যখন কফির কাপে
কলম্বিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি সুরকোলম্বিয়ানা’র ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে আগামী সেমিস্টার থেকেই শুরু হচ্ছে এর ক্লাস। প্রথম দফায় ১২০ জন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে পারবেন। কলম্বিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবুজ সঙ্কেত পাওয়া ছয়টি বিশেষ কোর্সে পড়ার সুযোগ পাবেন তারা।
তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টি হলো, কলম্বিয়ায় এই প্রথম চালু করা হয়েছে ‘কফি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক একটি অনন্য বিভাগ, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি। এর সাথে থাকবে টেকসই কফি ব্যবস্থাপনা, কফি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের উদ্ভাবন, উৎপাদন, বিপণন এবং কফি খামারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মতো দারুণ সব বিষয়। এমনভাবে কোর্সগুলো সাজানো হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা শেষ করে ধাপে ধাপে পেশাদার পর্যায়ে যেতে পারেন। আবার একই সাথে কর্মক্ষেত্রেও ঢুকে পড়তে পারেন।
তরুণদের খামারে ফেরানোর লড়াই
কিন্তু হঠাৎ কেন কফি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়? আসলে কলম্বিয়ার কফি শিল্পের একটা বড় সঙ্কট হলো, নতুন প্রজন্মের তরুণরা আর আগের মতো কফি চাষ বা কৃষিতে থাকতে চাচ্ছে না। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে কফি চাষের অভিজ্ঞতা আর ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, কফি নিয়ে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা থাকলে তরুণরা গ্রামে থেকে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে। এতে কফির সুদিন যেমন ফিরবে, তেমনি গ্রামের অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।
এক মিলিয়ন ডলারের মহাযজ্ঞ
কফি নিয়ে এই আয়োজন কিন্তু মোটেও ছোটখাটো নয়। পিটালিটো ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবনটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার। এর বাইরে ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার সাজাতে, অবকাঠামো ঠিক করতে এবং ক্লাসরুম আধুনিক করতে স্থানীয় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলাদা তহবিল বরাদ্দ করেছে। এখানে থাকবে বিশেষায়িত গবেষণাগার, নতুন কিছু তৈরির উদ্ভাবনী জায়গা এবং হাতে-কলমে শেখার সব আধুনিক ব্যবস্থা।
এলাকার মানুষ এই উদ্যোগকে শুধু একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখছেন না, দেখছেন পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাগ্য বদলের হাতিয়ার হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয় আর কৃষিকে এক সুতোয় বেঁধে লাতিন আমেরিকার বুকে এটি এক নতুন মডেল হতে চলেছে।
সূত্র : ইসনা



