নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করতে চাওয়া মার্কিন কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি ব্রাজিল

উত্তেজনাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তিন মাসেরও কম সময় আগে ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করতে চাওয়া দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা |সংগৃহীত

উত্তেজনাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তিন মাসেরও কম সময় আগে ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করতে চাওয়া দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি। একটি কূটনৈতিক সূত্র শনিবার (২৫ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাজিলের ওই সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তটির পেছনে ‘রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের ঝুঁকি’ কাজ করেছে।

ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো এ সপ্তাহে আবারো দেশটির ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিরাপদ নয় বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচন নিয়ে অসত্য দাবি অব্যাহত রাখার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে।

সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গত ২০ জুলাই ভিসার আবেদন করা হয়েছিল। ওই দুই কর্মকর্তা ব্রাজিলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।

সূত্রটি আরো জানায়, একই দিনে ফ্লাভিও বলসোনারো বিদেশী কূটনীতিকদের সাথে একটি ব্যক্তিগত বৈঠক করেন, সেখানে তিনি ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ কারণে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভিসার আবেদনটি বিশেষভাবে নজরে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, দুই কর্মকর্তা ২৭ থেকে ৩০ জুলাই রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সফর করতে চেয়েছিলেন। সেখানে তারা সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও অন্যদের সাথে ‘নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

মার্কিন মুখপাত্র বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ‘চক্রান্ত’ করা হয়েছে- এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনও মিথ্যা। এটি ছিল একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত সফর।’

ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ২০২৩ সালে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। এর আগের বছর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনিও ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন।

পরে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

সূত্র: বাসস