ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি ট্রাম্প

ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তবে নিজের নিরাপত্তা টিমের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। তার এই নীরবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং বড় কোনো সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি চলছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজ থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরানের দেয়া নতুন প্রস্তাবটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি নিশ্চিত করেছেন, প্রেসিডেন্ট তার ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিমের সাথে এই প্রস্তাবের খুঁটিনাটি নিয়ে গভীর আলোচনা চালাচ্ছেন।

তবে মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প প্রথাগত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বদলে নিজের বিশেষ নিরাপত্তা টিমের সাথে কথা বলছেন।

এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যটা বেশ বড়, কারণ সরকারি কাউন্সিলে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাদের থাকা বাধ্যতামূলক, যেমন প্রতিরক্ষা সচিব কিংবা জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান। কিন্তু ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত টিমে ঠিক কারা আছেন, তা এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নিজে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নিজেই সঠিক সময়ে তার বক্তব্য দেবেন, এর আগে অন্য কেউ আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে রাজি নন। ফলে ইরানের নতুন এই কূটনৈতিক চাল নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখতে সারা বিশ্ব এখন ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই নতুন প্রস্তাবটি রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। তেহরান যখন কোনো আন্তর্জাতিক প্রস্তাব টেবিলে রাখে, তখন তার পেছনে গভীর কোনো কৌশল থাকে। এবারের প্রস্তাবটিও তার ব্যতিক্রম নয়। ট্রাম্পের নিরাপত্তা টিমের সাথে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প খুব দ্রুত নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেন, কিন্তু এবার তার এই দীর্ঘ নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তনের হাওয়া লাগে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সতর্কভাবে দেখা হয়। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিমে হয়তো এমন কেউ আছেন যারা সামরিক কৌশলের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি জোর দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি হয়তো ওয়াশিংটনের জন্য কিছুটা অস্বস্তির, আবার কিছুটা সুযোগেরও। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির নীতি নিয়ে চললেও এখন আলোচনার টেবিলে বসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছে না। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি যেভাবে রাখঢাক করে কথা বলছেন, তাতে বোঝা যায় যে ভেতরে ভেতরে বড় কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই নীরবতা কি ঝড়ের আগের শান্তি, নাকি তিনি ইরানকে আরো চাপে ফেলার জন্য নতুন কোনো চাল চালছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র : আল জাজিরা