ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও

ব্রাজিলের ডানপন্থী লিবারেল পার্টি শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফ্লাভিও বলসোনারো
ফ্লাভিও বলসোনারো |সংগৃহীত

ব্রাজিলের ডানপন্থী লিবারেল পার্টি শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং ৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে আগামী অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (৮০)। তিনি টানা চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হতে চাইছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্লাভিও বলসোনারো একের পর এক সঙ্কটে পড়ায় লুলার অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।

২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া কট্টর ডানপন্থী নেতা জাইর বলসোনারো তার জ্যেষ্ঠ ছেলে ফ্লাভিওকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন।

সাও পাওলোর একটি গুদামঘরে সমর্থকদের উদ্দেশে ফ্লাভিও বলেন, ‘আমি হয়তো আরো শান্ত, আরো হাসিখুশি, আরো সংযত এবং আরো মধ্যপন্থী। কিন্তু আমার শরীরে বলসোনারোর রক্তই প্রবাহিত হচ্ছে।’

এ বক্তব্যে উপস্থিত সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, লুলা পুনর্নির্বাচিত হলে জনসংখ্যা, আয়তন ও অর্থনীতির দিক থেকে ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল ‘স্বৈরতন্ত্রের দিকে বিশাল পদক্ষেপ নিতে পারে’।

তার এ বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন আর্জেন্টিনার উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি সমর্থন জানাতে তিনি সম্মেলনে সরাসরি যোগ দেন।

মিলেই বলেন, ‘ব্রাজিলের ওপর ঝুলে থাকা লুলার ঝুঁকির অবসান ঘটানোর সক্ষমতা অন্য কারো নেই বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

সম্মেলনে বাবার প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফ্লাভিও। অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি জাইর বলসোনারোর একটি ভিডিও দেখানো হয়। গৃহবন্দী অবস্থায় সাজা ভোগ করায় আদালত সাবেক প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

অপরাধ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেয়া ফ্লাভিও কিছুদিন আগেও জনমত জরিপে লুলার সাথে সমানে সমান অবস্থানে ছিলেন। তবে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পর তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এসবের মধ্যে রয়েছে এক কলঙ্কিত ব্যাংকারের সাথে সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ এবং মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা নতুন শুল্ক।

সূত্র: বাসস