গত শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টা মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলে এক তীব্র কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে। যদিও ঘটনায় কারো প্রাণ যায়নি, তবে প্রশ্ন উঠেছে যদি ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা মারা যেতেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার সাথে সাথে কার হাতে যেত?
এই অনিশ্চয়তা ওয়াশিংটনের ক্ষমতা কাঠামোর এক গভীর সঙ্কটের দিক উন্মোচন করেছে। বিষয়টি এখন আর কেবল আইনি তর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এক বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন সংবিধানের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কিছু হলে সবার আগে দায়িত্ব নেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টা পূরণ করবেন এবং নিজের জন্য একজন নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট বেছে নেবেন।
তবে পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে ট্রাম্প ও ভ্যান্স দুজনেই হামলার শিকার হয়েছেন, তবে ক্ষমতার ভার যাবে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাঁধে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ক্ষমতার এই পালাবদল অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। যদি স্পিকারও না থাকেন, তবে সিনেটের প্রবীণতম সদস্য চাক গ্রাসলি হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। ৯২ বছর বয়সের এই রাজনীতিক এখন রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
কিন্তু এরপরেও যদি সঙ্কট না কাটে এবং সারিবদ্ধ নেতারা আক্রান্ত হন, তবে ধারাবাহিকভাবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা দায়িত্ব পাবেন। এই তালিকা তৈরি হয়েছে ক্যাবিনেট দফতরগুলো কত আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে। সেই হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আছেন সবার আগে। এরপরে আছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ।
তবে এখানেও একটা বড় আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে টড ব্ল্যাঞ্চের নাম থাকলেও তিনি এখনো পূর্ণ অনুমোদন পাননি। এমন অস্পষ্টতা বিপদের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে এক সাংবিধানিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিতে পারে, যা দেশটির বৈশ্বিক প্রভাবকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ‘ডেজিগনেটেড সারভাইভার’ বা এক জন মনোনীত উত্তরসূরিকে বড় অনুষ্ঠানের বাইরে রাখে, যাতে কোনো মহাবিপর্যয়ে সবাই মারা গেলেও অন্তত একজন রাষ্ট্র চালানোর জন্য বেঁচে থাকেন। ট্রাম্প সাধারণত এসব প্রথা খুব একটা মানেন না। গত শনিবারও তিনি ভ্যান্স, জনসন, রুবিও এবং হেগসেথকে সাথে নিয়ে একই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। বন্দুকধারী যদি সফল হতো, তবে মার্কিন প্রশাসন এক অভাবনীয় শূন্যতার মুখে পড়ত। ভাগ্যক্রমে ৯২ বছর বয়সী চাক গ্রাসলি ওই অনুষ্ঠানে না থাকায় অন্তত একজন উত্তরাধিকারী টিকে ছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ওয়াশিংটনের সাজানো ক্ষমতার দুর্গ আসলে কতটা ঠুনকো সুতোর ওপর ঝুলে আছে।
সূত্র : রয়টার্স



