মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের প্রভাব সৃষ্টিকারী পোস্টগুলো দ্রুত পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে ওয়াল স্ট্রিটের একাধিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্প মিডিয়ার বিতর্কিত নতুন সেবা 'ট্রুথ এপিআই' ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পিছনা হয়নি তারা। 'এপিআই' হলো এমন এক প্রযুক্তিগত মাধ্যম, যার সাহায্যে একটি সফটওয়্যার থেকে অন্য সফটওয়্যারে চোখের পলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পৌঁছে যায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পোস্টগুলো সাধারণ পাঠকের আগেই চলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের উচ্চগতির ট্রেডারদের হাতে, যা দিয়ে তারা বাজারে আগাম সুবিধা বা মুনাফা তুলে নিতে পারছেন।
চলতি আগস্টের শুরুতেই সেবাটি চালু করেছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কেভিন ম্যাকগার্ন আয় সংক্রান্ত এক কনফারেন্স কলে জানান, বর্তমানে ১০টিরও বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান এই সেবা নিচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং বা উচ্চগতির শেয়ার কেনাবেচার সাথে যুক্ত। দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলার (অর্থাৎ, বাংলাদেশী মুদ্রায় মাসে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।) পর্যন্ত ফি দিচ্ছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প মিডিয়া এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৩ কোটি ৮০ লাখ (২৩৮ মিলিয়ন) ডলার লোকসান গুনেছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় এই ক্ষতির পরিমাণ ১০ গুণেরও বেশি। প্রযুক্তি ও মিডিয়ার বাইরে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার মতো নতুন খাতে বিনিয়োগ করতে গিয়েই প্রধানত এই বিপুল লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১০এক্স গবেষণার বিশ্লেষক মার্কাস থিলিয়ান। গত প্রান্তিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের পতনে এই ক্ষতি হলেও কোম্পানিটির মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার। এ সম্পদের মধ্যে ১৯০ কোটি ডলারই রয়েছে নগদ অর্থ, স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ ও ডিজিটাল মুদ্রায়।
জুলাই মাসে প্রথম ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্রুথ সোশ্যালে দ্রুত তথ্য সরবরাহের এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। যেখানে ট্রাম্প প্রায়ই নানা নীতিগত ও অর্থনৈতিক ঘোষণা দিয়ে থাকেন। তবে এই পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক। প্রেসিডেন্ট পরিবার যে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার, তারা প্রেসিডেন্টের নিজস্ব বক্তব্য বা পোস্ট বিক্রি করে এভাবে লাভবান হতে পারে কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প মিডিয়া জানায়, এই 'এপিআই' সেবা তাদের জন্য একটি টেকসই ও অর্থপূর্ণ আয়ের উৎস হতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা, বেটিং বা বাজি বাজার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতেও ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছে তারা। তবে সম্প্রতি 'ক্রিপ্টো ডটকম'-এর সাথে ট্রুথ সোশ্যালে পূর্বানুমান বাজার চালুর একটি পরিকল্পনা তারা বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের মূল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসাতেই আবার নজর দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি



