যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড ও বৃহস্পতিবার এতে যুক্ত হন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-বাণিজ্য প্রতিনিধি জেফ গুটম্যান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ডের সাথে কথা বলছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির
মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ডের সাথে কথা বলছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির |রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার প্রথম দফা সম্পন্ন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপের প্রেক্ষাপটে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার লক্ষ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২০২০ সালে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) প্রথমবারের মতো পর্যালোচনা হতে চলেছে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড ও বৃহস্পতিবার এতে যুক্ত হন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-বাণিজ্য প্রতিনিধি জেফ গুটম্যান।

মার্কেলো এব্রার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আলোচনায় অটোমোবাইল খাতের উৎপত্তি বিধি, এশিয়া ও অন্যান্য দেশগুলোর সাথে কিভাবে প্রতিযোগিতা করা হয় এবং কিভাবে আরো বেশি সমন্বিত হতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মেক্সিকান প্রতিনিধিদল আলোচনাটিকে ‘একটি গঠনমূলক পরিবেশে ও খোলামেলা সংলাপের মাধ্যমে’ অনুষ্ঠিত বলে বর্ণনা করেছে।

বৈঠকটি ‘সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক’ভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মেক্সিকোর সাথে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

মার্কিন বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রথম দফার আলোচনায় অটোমোবাইলের উৎপত্তি নিয়ম, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম খাত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রসাধনীসহ বিভিন্ন খাতে নিয়ম-কানুন সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউএসএমসিএ চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারেন, কারণ তার মতে এটি মার্কিন অর্থনীতির জন্য লাভজনক নয়- যা আলোচনার ওপর চাপ তৈরি করেছে।

মেক্সিকোর জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির ৮০ শতাংশের বেশি রফতানি যুক্তরাষ্ট্রে যায়।

প্রথম দফা বৈঠক শেষ হওয়ার পর জানা গেছে, পরবর্তী আলোচনা জুনে ওয়াশিংটনে ও জুলাইয়ে মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র : এএফপি/বাসস