জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ব্লুমবার্গ নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কয়েকজন সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে কয়েকজন সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি
জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে কয়েকজন সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ সপ্তাহে নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের অ্যাশভিলে অনুষ্ঠেয় জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করতে কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছর জি২০-এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই কারণে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের নিয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেয়ার বিষয়টি ট্রেজারি বিভাগই দেখভাল করছে।

তবে অস্বাভাবিক এক সিদ্ধান্তে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ব্লুমবার্গ নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কয়েকজন সাংবাদিককে বৈঠকে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র দেয়া হয়নি বলে গণমাধ্যমগুলোর নিজস্ব প্রতিবেদন ও অন্যান্য সংবাদে জানা গেছে।

ব্লুমবার্গ নিউজ রোববার (৩০ আগস্ট) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চীনে কর্মরত তাদের সাংবাদিকদের কাউকেই বৈঠকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। একাধিকবার আবেদন করা হলেও কেন অনুমতি দেয়া হয়নি, সে বিষয়ে ট্রেজারি বিভাগ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

ব্লুমবার্গ নিউজের এক মুখপাত্র বলেন, বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না দেয়া ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে’।

তিনি আরো বলেন, বৈঠকের কার্যক্রম সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ সংবাদকর্মী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার জানায়, তাদের অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক প্রতিবেদককে বৈঠক থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ তিনি বহু বছর ধরে এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করে আসছেন। তবে পত্রিকাটির বার্লিন ব্যুরো প্রধানকে বৈঠকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক মুখপাত্র বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘স্বাধীন সাংবাদিকতাকে দুর্বল করার প্রশাসনের আরেকটি উদ্বেগজনক প্রচেষ্টাই নয়, বরং জনসম্মুখের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার একটি স্পষ্ট চেষ্টা।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার আরো কঠোর করেছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রেস অফিসকে ‘গোপনীয় এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করাসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, বন্ডের বাজার এবং মূল্যস্ফীতির মতো বিষয় যখন জি২০ অর্থমন্ত্রীদের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, তখন এই বৈঠকের গুরুত্ব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন জনগণের জন্য অত্যন্ত বেশি।’

ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, প্রায় এক ডজন দেশের প্রায় ৩০০ জন সাংবাদিককে এই বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘বৈঠকজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ব্যাপক যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। আর এই সুযোগের সাথে প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকতার নীতি মেনে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের দায়িত্বও রয়েছে।’

মুখপাত্র বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘ক্লিক, পাঠকের আগ্রহ বাড়ানো বা চমকপ্রদ উপস্থাপনাকে’ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত নয়।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকদের বৈঠকে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে—এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও পত্রিকাটি কোনো জবাব দেয়নি।

সূত্র : বাসস