ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বিশ্বে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। এ সময় তিনি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে আর্জেন্টিনার বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিতের কথাও উল্লেখ করেন।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ভাষণে মিলেই বলেন, ‘বিশ্বে পরিবর্তনের এমন হাওয়া বইছে, যা আমাদের দাবির পক্ষে অনুকূল।’
দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়।
আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দ্বীপগুলোর মালিকানা দেশটির মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। এ নিয়ে ব্রিটেনের সাথে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা তৈরি হয়।
চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
পাশাপাশি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি ব্রিটিশ-ইসরাইলি তেল প্রকল্প নিয়েও আর্জেন্টিনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রিসভার এক ভাষণে মিলেই বলেন, আর্জেন্টিনা ‘চুপচাপ বসে থাকবে না’।
তিনি ফকল্যান্ডসের তেল প্রকল্পের সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ডস যুদ্ধের সাবেক সেনা সদস্য এবং পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীরা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরের পানিসীমায় ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার ও ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাসের উদ্যোগে নেয়া তেল প্রকল্প বন্ধের দাবিতে মামলা করেন।
মিলেই বলেন, এই প্রকল্প জাতিসঙ্ঘের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। ওই প্রস্তাবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফকল্যান্ডস নিয়ে একতরফা কোনো পদক্ষেপ না নিতে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনা—উভয় পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি হতে দেবো না। আমরা যদি এটি হতে দিই, তাহলে ব্রিটিশ সরকারকে দ্বীপগুলোতে তাদের দখল আরো শক্তিশালী করা এবং আমাদের সম্পদ শোষণের জন্য উৎসাহিত করা হবে।’
মিলেইর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে। আগামী বছর তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়বেন, আর তার আগে এক বছরেরও কিছু বেশি সময় বাকি।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ আর্জেন্টাইন তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন।
সূত্র : বাসস



