ইরান যুদ্ধের জের

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ বছরে সর্বনিম্নে কৌশলগত তেলের মজুদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির এই বিশেষ ভান্ডার খালি হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো—দেশটি এখন মারাত্মক জ্বালানি ঝুঁকিতে রয়েছে।

তেল-কুপ
তেল-কুপ |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বিরোধী আগ্রাসী নীতির উল্টো ফল এবার তাদের নিজেদের ওপরই পড়তে শুরু করেছে। ইরানের সাথে যুদ্ধবাজ নীতি অব্যাহত রাখায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর খেসারত দিচ্ছে ওয়াশিংটন। দেশটির কৌশলগত তেলের মজুদ গত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে।

ইরানের মেহের নিউজ রোববার (১৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুদ এখন মাত্র ৩১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলে ঠেকেছে। ১৯৮৩ সালের পর এটিই মার্কিন ইতিহাসে তেলের সর্বনিম্ন মজুদ। জো বাইডেনের আমলে যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল, বর্তমান মজুদ সেই সময়ের চেয়েও ২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কম।

এই কৌশলগত তেলের মজুদ হলো একটি দেশের ‘জরুরি জ্বালানি ব্যাংক’। যুদ্ধবিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে যখন তেলের আমদানি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখন দেশ সচল রাখতে এই আপৎকালীন মজুদ থেকে তেল ব্যবহার করা হয়। সাধারণত মাটির নিচে বিশাল সব সুরক্ষিত ট্যাংকে এই তেল জমিয়ে রাখা হয়, যেন যেকোনো চরম সংকটেও দেশের চাকা থমকে না যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির এই বিশেষ ভান্ডার খালি হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো—দেশটি এখন মারাত্মক জ্বালানি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইরানের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের ধাক্কা সামলাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিপুল পরিমাণ তেল ব্যবহার করে ফেলেছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সাথে হাত মিলিয়ে নিজেদের মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির চুক্তিও করেছে। কিন্তু তাদের এই কৌশল খুব একটা কাজে আসছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও তেল থাকলেও প্রতিবার মজুদ কমার খবর আসতেই বাজারে আগুন লেগে যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে আনার জন্য মরিয়া চেষ্টা করলেও তারা সফল হতে পারছে না। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।