যুদ্ধবিরতি চুক্তি খাদের কিনারায়, ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত তেহরানের
চলতি সপ্তাহে জর্দানের অন্তত দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে দ্য ডেইলি হিল শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে। হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট করা না হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের সাথে চলমান এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অফিসিয়াল নিহতের সংখ্যা এখন ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক পাইলটের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা আপডেট করা হয়। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন টানা কয়েকদিন ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মুহুর্মুহু হামলা চালানোর পর তেহরানও পাল্টা জবাব দেয়া শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে ইরানি বাহিনী। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়। শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ আনলে পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তেহরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবারও ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে টানা সপ্তম দিনের মতো দেশটিতে হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী।
অন্যদিকে ইরানও চুপ করে বসে নেই। তারা কাতার, জর্দান, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই ট্রাম্প প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ বন্ধ না হলে আগামী দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনীর ওপর পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালানো হবে। সিরিয়ার একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ড কোর, যদিও মার্কিন সেনারা আগেই সেখান থেকে সরে গেছে। শুক্রবার ইরানি হামলায় কুয়েতের বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যও আহত হয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় জয় পাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই মার্কিন জনগণ এর সুফল দেখতে পাবে।



