লাভ করছ, তেলের দাম কমাচ্ছ না কেন? : শেভরনকে ট্রাম্প

'অন্যান্য তেল কোম্পানিগুলোর জন্যও একই কথা প্রযোজ্য... আর হ্যাঁ, খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকদের জন্য তেলের দাম এখনই নিচে নামিয়ে আনুন!'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর আবারো প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার আক্রমণে লক্ষ্য বহুজাতিক তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরন।

সোমবার (৩ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রতিষ্ঠানটিকে টেনে তোলার পেছনে নিজের প্রশাসনের অবদান থাকলেও তা স্বীকার না করায় শেভরনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) মাইক ওয়ার্থকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। একই সাথে আমেরিকার সাধারণ গ্রাহকদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে কমানোর দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শেভরন সিইও-কে ট্রাম্পের তীব্র আক্রমণ

রোববার ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোর সাথে এক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন শেভরনের সিইও মাইক ওয়ার্থ। সেই সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনের নানা কারণ তুলে ধরলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভূমিকার কথা উল্লেখ করেননি তিনি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, 'শেভরনের চেয়ারম্যান ও সিইও মাইক ওয়ার্থ চমৎকার সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোর সাথে সাক্ষাৎকারে তার কোম্পানি কেন এত ভালো করছে, তার সব কারণ ব্যাখা করেছেন। কিন্তু সুবিধাজনকভাবে তিনি শুধু একটি কথা বলতে ভুলে গেছেন—ট্রাম্প প্রশাসনের বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা, শক্তি ও স্থিতিশীলতা না থাকলে তেল শিল্প এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আজ শেষ হয়ে যেতো!' ট্রাম্প আরো লেখেন, 'উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তারা মাইক এবং শেভরনকে ভেনেজুয়েলা থেকে বের করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা সেখানে ফিরে এসেছে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারা সেখান থেকে বিপুল অর্থ উপার্জনের আশা করছে!'

অন্যান্য তেল কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে ট্রাম্প আরো লেখেন, 'অন্যান্য তেল কোম্পানিগুলোর জন্যও একই কথা প্রযোজ্য... আর হ্যাঁ, খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকদের জন্য তেলের দাম এখনই নিচে নামিয়ে আনুন!'

যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের টানাপোড়েন

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মার্কিন বাজারে পেট্রোলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এ যুদ্ধের কারণে কোটি কোটি সাধারণ আমেরিকানকে জীবনযাত্রার চড়া ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই অর্থনৈতিক চাপ তার জন্য ততটাই বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ট্রাম্প অবশ্য বারবার বলে আসছেন যে, ইরানের সাথে সংঘাত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তেলের দাম 'পাথরের মতো হুড়মুড় করে নিচে নেমে আসবে'। তবে অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্পের এই দাবির সাথে একমত নন। তাদের মতে, এই যুদ্ধের ধাক্কায় আমেরিকার অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী এবং ক্ষতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে, রোববার ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আপাতত ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে কয়েকমাস ধরে চলা এই সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করতে হলে খুব দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবারো ভারী হামলা চালানোর হুমকি দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।