ইরানের সাথে চলমান আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (৩ মে) ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের সমাধান খুঁজে বের করতে ইরানের সাথে ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে। তবে এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী থেকে জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা শুরু করবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, তেহরান যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ওই প্রস্তাবের জবাবও দিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ‘আমার প্রতিনিধিরা ইরানের সাথে খুবই ইতিবাচক আলোচনা করছে। এই আলোচনা সবার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।
একপর্যায়ে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ইসলামাবাদে এক দফা সরাসরি শান্তি আলোচনা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেল, গ্যাস ও সার পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ওই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘তাই জাহাজগুলোকে নিরাপদে এই অবরুদ্ধ পানিপথ থেকে বের করে আনতে আমরা দিকনির্দেশনা দেবো, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।’
তিনি জানান, ‘এই প্রক্রিয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সোমবার সকাল থেকে, মধ্যপ্রাচ্যের সময় অনুযায়ী, শুরু হবে।’
এটিকে তিনি ‘মানবিক উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আটকে থাকা অনেক জাহাজে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ কমে আসছে।
তবে এই মিশন কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। সংকীর্ণ এই প্রণালীতে জাহাজ পরিচালনা করতে গিয়ে মার্কিন সেনারা ইরানি বাহিনীর খুব কাছাকাছি অবস্থানে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ সহায়তা শুরু করবে তাদের বাহিনী। এতে থাকবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, বহু-মাত্রিক মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম এবং ১৫ হাজার সেনা সদস্য।
সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘এই প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সহায়তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসাথে আমরা নৌ অবরোধ বজায় রাখছি।’
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা এক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপসাগরে ৯০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল। সঙ্ঘাতের শুরুতে এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ১০০-এর বেশি।
সূত্র: বাসস


