শিকাগোয় রক্তাক্ত উইকএন্ড : ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৭ প্রাণ, সেনা নামানোর হুমকি ট্রাম্পের

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, গভর্নর প্রিটজকার কেন তার কাছে সাহায্য চাইছেন না। তিনি দাবি করেন, সুযোগ পেলে মাত্র এক মাস বা এক বছরের মধ্যে তিনি শিকাগোকে অন্যতম নিরাপদ শহর বানিয়ে দিতে পারেন। ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের পর সেখানকার নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে গত উইকএন্ডে একের পর এক রক্তক্ষয়ী বন্দুকহামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরো ডজনখানেক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রোববার পর্যন্ত পুরো শহরজুড়ে অন্তত দুই ডজন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এই ভয়াবহ সহিংসতার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোয় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবি নতুন করে সামনে এনেছেন।

সহিংসতার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় আফ্রিকান-আমেরিকানদের দাসপ্রথা থেকে মুক্তির ঐতিহাসিক দিন ‘জুনটিনথ’ উৎসবের উদযাপন চলাকালীন।

শিকাগোর একটি রাস্তায় জড়ো হওয়া জনতার সামনে হঠাৎ একটি এসইউভি গাড়ি এসে থামে এবং গাড়ি থেকে দুজন বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই গণ-গুলিচালনার ঘটনায় ১৭ থেকে ৪৭ বছর বয়সী আটজন পুরুষ ও চারজন নারীসহ মোট ১২ জন আহত হন। তাদের চিকিৎসার জন্য চারটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরো এক ব্যক্তি সামান্য আহত হলেও তিনি চিকিৎসকের সাহায্য নিতে রাজি হননি।

উইকএন্ডের অন্যান্য আলাদা ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২১, ৩৩ এবং ৩৪ বছর বয়সী তিন ব্যক্তি রয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করেনি।

এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন। একইসাথে ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার কেন এখনো কেন্দ্রীয় সাহায্য চাননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, গভর্নর প্রিটজকার কেন তার কাছে সাহায্য চাইছেন না। তিনি দাবি করেন, সুযোগ পেলে মাত্র এক মাস বা এক বছরের মধ্যে তিনি শিকাগোকে অন্যতম নিরাপদ শহর বানিয়ে দিতে পারেন। ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের পর সেখানকার নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও ওয়াশিংটন ডিসিসহ ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন নিউ অরলিন্স এবং মেমফিসের মতো শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য মোতায়েন করেছিল। তবে ট্রাম্পের এই সেনা নামানোর পরিকল্পনা ও দাবিকে ঘিরে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এখন তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একটি নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নিসকানেট সেন্টার’র সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করার পরও সহিংস অপরাধ কমাতে তার প্রভাব ছিল একেবারেই সামান্য।

সূত্র : প্রেসটিভি