বিশিষ্ট মার্কিন তাত্ত্বিক জন মিয়ারশাইমার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও সফল হবে না। কারণ ট্রাম্প সামরিক যুদ্ধে পরাজিত হয়ে এখন দিশেহারা ও মরিয়া হয়ে পড়েছেন এবং বাঁচার জন্য এদিক-ওদিক হাত-পা ছোড়াছুড়ি করছেন।
মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ আরো জোরদার করার মাধ্যমে ইরানকে পরাস্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করে মার্কিন তাত্ত্বিক জন মিয়ারশাইমার বলেছেন, ওয়াশিংটন শুধু ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতেই ব্যর্থ হবে তা নয়, একইসাথে তার নীতির কারণে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে গেছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, ইরানের দৃষ্টিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল তেহরানের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি। আর কোনো দেশ যখন নিজেকে এমন হুমকির মুখোমুখি মনে করে, তখন সে সহজে অর্থনৈতিক চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
মিয়ারশাইমার উল্লেখ করেন, চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা সফল হবে না। চীন ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে তারা এই নীতির সাথে সহযোগিতা করবে না এবং রাশিয়াও তা করবে না।
মিয়ারশাইমার আরো বলেন, ওয়াশিংটন শুধু তেহরানের জন্যই নয়, বেইজিং ও মস্কোর জন্যও একটি হুমকি। এই যুদ্ধে ইরানের বিজয় চীন ও রাশিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয়।
এই মার্কিন তাত্ত্বিক জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক হাত ও পা ছোড়াছুড়ি করছেন এবং মরিয়া হয়ে পড়েছেন। কারণ তিনি নিজেই নিজেকে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়েছেন, যেখানে তিনি পরাজিত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ মার্কিন ইতিহাসের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত হবে।
সূত্র : পার্সটুডে



