করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই

ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, করের আওতা বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মধ্যে অনুষ্ঠিত ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উপস্থিতিতে এগুলো তুলে ধরেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান।

এতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়গুলো তুলে ধরে এফবিসিসিআই। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে বাস্তবমুখী রাজস্ব নীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি।

কর প্রস্তাবে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনটি ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা এবং নারী ও প্রবীণদের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করে।

এ ছাড়াও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর্পোরেট কর ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই হার ২০ থেকে ২২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

ব্যবসায়িক চাপ কমাতে ন্যূনতম কর হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা এবং পর্যায়ক্রমে তা পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

পাশাপাশি আমদানি করা কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা এবং স্বচ্ছতা ও বিধিবিধান মানার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা (কমপ্লায়েন্স) বাড়াতে ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

কর আদায় ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্য সরকারের রয়েছে, তার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এফবিসিসিআই, যাতে নিয়ন্ত্রক তদারকি আরো শক্তিশালী হয়।

ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সুদের হার কমানোর সুপারিশ করার পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক লার্জ ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট (এলটিইউ) এবং মিডিয়াম ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট (এমটিইউ) স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

অর্থ পাচার রোধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

রফতানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি)সহ অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্পের জন্য আগামী পাঁচ বছর ০.৫০ শতাংশ উৎসে কর বহাল রাখারও প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া, এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) আরো সম্প্রসারণ করে সবকটি রফতানি খাতের জন্য উন্মুক্ত করা এবং ক্ষুদ্র রফতানিকারকদের সহায়তায় একটি কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ রফতানিমুখী শিল্পের জন্য ইউটিলিটি সুবিধার ওপর প্রণোদনা দেয়ারও সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এ ছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারে বিধবা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি। সেই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, নার্সিং এবং ভাষা শিক্ষার মতো উদীয়মান খাতগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এফবিসিসিআই।