অত্যাধুনিক আইসিইউ-এনআইসিইউ সেবা দিচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

হাসপাতালটিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ শতাধিক শয্যার নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) রয়েছে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক আইসিইউ, এইচডিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সবার সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। অত্যাধুনিক আইসিইউ, এনআইসিইউ, এইচডিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের আস্থা অর্জন করেছে। বর্তমানে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল একটি তৃতীয় পর্যায়ের (টার্শিয়ারি কেয়ার) চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নারী, পুরুষ ও শিশু—সব ধরনের রোগীকে সেবা প্রদান করে। হাসপাতালটিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ শতাধিক শয্যার নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) রয়েছে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক আইসিইউ, এইচডিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। এসব ইউনিটে স্বনামধন্য চিকিৎসক ও দক্ষ নার্সরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য নামমাত্র খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে হাসপাতালটি। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন এড়ানো এবং স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আদ্-দ্বীনের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত। ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এমনকি পূর্বে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকলেও উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহ দেয়া হয়।

শরীয়তপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন ফাতিমা জানান, প্রথম সন্তান স্বাভাবিকভাবে এবং দ্বিতীয় সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়ায় তিনি তৃতীয় সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রেও সিজারের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রোগীর স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয়েছে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, অভিজ্ঞ চিকিৎসক-নার্স এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয়ে হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, হাসপাতালের ৭০০ শয্যার মধ্যে ৩০০টি বিনামূল্যে বরাদ্দ রয়েছে। এসব রোগীর চিকিৎসা, থাকা ও খাবারের ব্যবস্থাও বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সরকারের সব ধরনের নিয়ন্ত্রক নীতিমালা অনুসরণ করেই হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বহির্বিভাগে ১ হাজার ৫২ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে ৬৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৬ জন প্রসূতি সন্তান প্রসব করেছেন। বর্তমানে এনআইসিইউতে ৫৬ জন নবজাতক ও আইসিইউতে ৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ৩৪ জন রোগী কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহণ করেছেন। বিজ্ঞপ্তি