বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে আমরা ভালো করেছি। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমাদের আরো পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন
বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন

শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসির শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন-২০২৬ রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো: কামরুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালকগণ- অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো: আব্দুল আহাদ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস এম ইকবাল হোছাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক মো: সিরাজুল ইসলাম।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো: মোফাজ্জেল ও সুভাষ চন্দ্র দাস, মহাব্যবস্থাপক মো: ইসমাইল, মো: মমিনুল হক, মো: নাসির উদ্দীন, সুমিত রঞ্জন নাথ, মো: হাসান ইমাম, মো: গোলাম সাঈদ খান, সাইদুর রহমান সোহেল, শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপক ও প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে আমরা ভালো করেছি। তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমাদের আরো পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।

পাশাপাশি তিনি গ্রাহকদের উন্নত ও সহজতর সেবা প্রদান এবং লোকসানি শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সার্বিক সহযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশেষ অতিথি শেখ ফরিদ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন এবং বেসিক ব্যাংকের খেলাপিঋণ আদায়ে আরো কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নতুন কোনো ঋণখেলাপি হতে দেয়া যাবে না, স্বল্পসুদে আমানত সংগ্রহ বাড়াতে হবে এবং কমিশন আয়সহ নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের খারাপ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরে বেসিক ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ভালো গ্রাহক নির্বাচন, রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং খেলাপিঋণ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মো: আব্দুল আহাদ ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ব্যাংকের সর্বস্তরে সুশাসন জোরদার করা জরুরি। এ ছাড়া তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল করার পরামর্শ দেন।

ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সর্বাবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

এসএম ইকবাল হোসাইন রেমিট্যান্স আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো: কামরুজ্জামান খান সকল শাখা ও উপশাখা প্রধানকে স্বাগত জানান এবং ২০২৬ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সকল বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়েও শাখা ব্যবস্থাপকগণকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংক ক্রমান্বয়ে উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি