এস আলমের হাতে তুলে না দেয়ার দাবি

ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সমাবেশ

ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র হাজার - হাজার গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। এসময় গ্রাহকেরা ‘ইসলামী ব্যাংক দখলের পায়তারা বন্ধ করো’, ‘ব্যাংক দখলের কালো আইন বাতিল করো’, ‘এস আলম নো মোর’ - সহ বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সমাবেশ
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সমাবেশ |সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংক চট্টগ্রাম ভিত্তিক লুটেরা ব্যবসায়ী এস আলমের হাতে তুলে না দেয়ার দাবিতে ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ সমাবেশ করেছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র হাজার - হাজার গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। এসময় গ্রাহকেরা ‘ইসলামী ব্যাংক দখলের পায়তারা বন্ধ করো’, ‘ব্যাংক দখলের কালো আইন বাতিল করো’, ‘এস আলম নো মোর’ - সহ বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন।

সমাবেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুরু নবী মানিক পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি গুলো হলো-

১. ব্যাংক লুটেরা এস আলম ও সকল শীর্ষ লুটেরাকে গ্রেপ্তার এবং দেশীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সাথে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে হবে।

২. ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যাংক রেজুলেশন আইনে সংযোজিত ১৮/ক ধারা বাতিল করতে হবে।

৩. ব্যাংকের সামনে অবৈধভাবে মব সৃষ্টিকারী এস আলমের দোসর, পটিয়া বাহিনীকে পুনরায় সুযোগ দেয়া হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায় নিতে হবে।

৪. মব সৃষ্টিকারী কোনো অবৈধ দখলদার বাহিনীকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দিলে তা বরদাশত করা হবে না।

৫. ব্যাংকের প্রকৃত মালিক যাদের কাছ থেকে হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক এস আলম মালিকানা দখল করেছিল, তাদের হাতে অতি দ্রুত ব্যাংক মালিকানা ফেরত দিতে হবে।

বক্তারা ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ করা হয়েছে, তা বাতিল করতে সমাবেশ থেকে দাবি জানান।

দাবি আদায়ে দেশব্যাপী ১৫ দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- অনলাইন ও অফলাইনে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও প্রচারণা চালানো, ছাত্র-যুবক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সহযোগীদের চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচার, জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন, সভা ও সেমিনার আয়োজন এবং জনমত গঠনের ওপর জোর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের কোটি কোটি মানুষের আমানত সুরক্ষার স্বার্থে কয়েকজন লুটেরার হাতে ব্যাংক খাত ছেড়ে দেয়া যায় না। তারা জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।