আটকে থাকা আমানতের অর্থ দ্রুত ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন অবসায়ণাধীন ছয়টি নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের (এনবিএফআই) ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা।
বুধবার (৬ মে) ‘এলায়েন্স অব ৬ এনবিএফআই ডিপোজিটর রিকভারি’র পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়। পরে মতিঝিল শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেন আমানতকারীরা।
মানববন্ধনে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী, একুশে পদকপ্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম আমানতকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা নিজেদের জমানো অর্থের জন্য পথে পথে ঘুরছেন। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে এনবিএফআই আমানতের টাকা লুটপাট করা হয়। দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আমানতকারী কষ্টার্জিত সঞ্চিত টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে নতুন সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা জনমুখী নাকি পতিত আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট সরকার।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ১২ হাজারের বেশি আমানতকারী গত সাত বছর ধরে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানবিক সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন। কষ্টার্জিত সঞ্চয় আটকে থাকায় অনেক আমানতকারী ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অর্থাভাবে চিকিৎসাবঞ্চনার কারণে ইতোমধ্যে একাধিক আমানতকারীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
আমানতকারীরা বলেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর জনগণের আমানত সুরক্ষার দায়িত্ব বর্তায়। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়—জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে আমানত ফেরতের জন্য সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা এবং গভর্নরের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের সুযোগ প্রদান।
আমানতকারীদের পক্ষে জাফর উল্লাহ খান স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।



