৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির যাত্রা শুরু

তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গত দুই দিনে তাদের লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে এবং এই সময়ে ৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করেছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির প্রাথমিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ লেনদেন শুরুর প্রথম দুই দিনে প্রতিষ্ঠানটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গত দুই দিনে তাদের লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে এবং এই সময়ে ৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করেছে। এটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে সরকারের উদ্যোগের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন।’

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এসব কথা বলেন।

প্রথম দুই দিনে ব্যাংকটি ৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানতের বিপরীতে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলনের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে। যেখানে ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

আহসান এইচ মনসুর জোর দিয়ে বলেন, নিট পরিস্থিতি সন্তোষজনক। কিছু শাখায় উত্তোলনের তুলনায় আমানতের পরিমাণ বেশি ছিল।

নতুন প্রণীত ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ’র আওতায় দুই মাসের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল লেটার অফ ইনটেন্ট (এলওআই) ইস্যু করা, মূলধন গঠন এবং রেজুলেশন স্কিম বাস্তবায়ন।

বর্তমানে ব্যাংকটি সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তবে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন আইন বিশেষজ্ঞ এবং একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকারসহ স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক ধাপটি মসৃণ হলেও গভর্নর আইটি ইন্টিগ্রেশন (তথ্যপ্রযুক্তি সমন্বয়) এবং ফরেনসিক অডিটসহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম বর্তমানে একীভূত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সমন্বিত আইটি সিস্টেম স্থাপনে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের অতীতের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হবে।

মানবসম্পদ নীতির বিষয়ে গভর্নর পরিষ্কার করে জানান যে, ঢালাওভাবে ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ফরেনসিক তদন্তে যেসব কর্মকর্তা পূর্ববর্তী আর্থিক অনিয়মে জড়িত বলে প্রমাণিত হবেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ব্যাংকটি তাদের শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বর্তমান বাজার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করছে এবং একগুচ্ছ নতুন শরিয়াহসম্মত প্যাকেজ চালু করার পরিকল্পনা করছে।

গভর্নর বলেন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাঁচটি পৃথক প্রতিষ্ঠান থেকে একটি একক কাঠামোতে রূপান্তরিত হয়ে এই সফল সূচনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসক এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতারই প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে আমরা গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছি। কিছু শাখায় আমরা টাকা তোলার চেয়ে জমা দেয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করেছি।’

তিনি আরো জানান, আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আমন্ত্রণ জানান।

সূত্র : বাসস