এশিয়ার জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে নতুন জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো উদ্যোগে ৭০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। যার লক্ষ্য হলো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে পাওয়ার গ্রিড সংযুক্ত করা, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা উন্নত করা।
এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক তথ্যবার্তায় এসব জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়, রোববার (৩ মে) উজবেকিস্তানের সমরকন্দে এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা।
এডিবি বলছে, প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড ইনিশিয়েটিভের অধীনে, এডিবি, সরকার, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে মিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামোর জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলার সংহত করবে। যা বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উন্মোচন করতে পারবে।
এদিকে, বৈঠক শেষে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, জ্বালানি ও ডিজিটাল পরিষেবা এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এ দুটি উদ্যোগ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা ও সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। আন্তঃসীমান্ত পাওয়ার গ্রিড ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করার মাধ্যমে আমরা খরচ কমাতে, সুযোগ প্রসারিত করতে এবং কোটি কোটি মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারি।
এডিবি বলছে, প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড ইনিশিয়েটিভ জাতীয় ও উপ-আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাগুলোকে সংযুক্ত করবে। যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আন্তঃসীমান্তে প্রবাহিত হতে পারে। অন্যদিকে, এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে ডিজিটাল অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে এবং এই অঞ্চলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত প্রবৃদ্ধি থেকে লাভবান হতে সক্ষম করবে। এ উদ্যোগটি আন্তঃসীমান্ত লাইন, সাবস্টেশন, সঞ্চয় ব্যবস্থা ও গ্রিড ডিজিটালাইজেশনসহ সঞ্চালন ও গ্রিড একীকরণের উপর মনোযোগ দেবে। এটি নবায়নযোগ্য শক্তি রফতানি প্রকল্প, আঞ্চলিক নবায়নযোগ্য শক্তি কেন্দ্র এবং হাইব্রিড উৎপাদন-সঞ্চয় সুবিধাসহ বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সাথে যুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকেও সমর্থন করবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এডিবি’র লক্ষ্য হলো আন্তঃসীমান্তে প্রায় ২০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি একীভূত করা। ২২ হাজার সার্কিট-কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন সংযুক্ত করা, ২০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি প্রাপ্তির সুযোগ উন্নত করা, ৮ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ খাতের নির্গমন ১৫ শতাংশ কমানো।
এডিবি আশা করছে যে, ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই উদ্যোগের প্রায় অর্ধেক নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করবে। বাকিটা বেসরকারি খাতসহ অন্যান্য উৎস থেকে সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করবে। এক কোটি ডলার পর্যন্ত কারিগরি সহায়তা বিধিমালা সমন্বয়, সাধারণ কারিগরি মান গ্রহণ, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তুত এবং বড় প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড ইনিশিয়েটিভ দেশ-থেকে-দেশ জ্বালানি সংযোগ থেকে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের একটি আঞ্চলিক পদ্ধতির দিকে পরিবর্তনের সূচনা করে। এটি বিদ্যমান উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা উদ্যোগগুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি, বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের গ্রিড আন্তঃসংযোগ পরিকল্পনা, আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড এবং মধ্য এশিয়া আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জ্বালানি কৌশল ২০৩০।
এডিবি জানায়, এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ডিজিটাল করিডোর, ডেটা পরিকাঠামো এবং এআই-প্রস্তুত অর্থনীতিতে অর্থায়নের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার সংহত করবে। এই বিনিয়োগ স্থল ও সমুদ্রের তলদেশের ফাইবার নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট সংযোগ এবং আঞ্চলিক ডেটা সেন্টারসহ সংযুক্ত পরিকাঠামোর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। এডিবি সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ নীতি ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা প্রদান করবে এবং ডিজিটাল ও এআই প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য দক্ষতা কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করবে।
২০৩৫ সালের মধ্যে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ২০ কোটি মানুষকে প্রথমবারের মতো ব্রডব্যান্ড সংযোগ এবং এই অঞ্চল জুড়ে আরো ৪৫ কোটি মানুষের জন্য দ্রুততর ও অধিক নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সংযোগ প্রদান করা। আশা করা হচ্ছে, এটি প্রত্যন্ত ও স্থলবেষ্টিত এলাকায় সংযোগ খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমাবে এবং ৪০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। এডিবি ২০ বিলিয়ন ডলারের এই উদ্যোগের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বেসরকারি খাতসহ অন্যান্য উৎস থেকে সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করবে বলে আশা করছে। এই উদ্যোগকে সহায়তা করার জন্য সিউলে ‘সেন্টার ফর এআই ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সরকারের ২০ মিলিয়ন ডলার অনুদানের সহায়তায়, কেন্দ্রটি ২০৩৫ সালের মধ্যে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই ব্যবহারকে উৎসাহিত করবে এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে ডিজিটাল ও এআই-সম্পর্কিত দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করবে।



