জামালপুরের বকশীগঞ্জে সরিষা কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে পুরোদমে। উপজেলা জুড়ে ক্ষেত থেকে সরিষা কাটা, মাড়াই ও বাড়িতে নিয়ে রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দি করে বাজারে বিক্রির জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এবার উপজেলা জুড়ে সরিষার ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাঁসির ঝিলিক।
সরেজমিনে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের গাজীপাড়া, বাঙলা পাড়া, খেতারচর, বগারচর ইউনিয়নের চৌখারচর, আলীরপাড়া, মেরুরচর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা ক্ষেত থেকে সরিষা কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্য সদস্যরা আনন্দের সাথে দলবেধে সরিষা মাড়াই করছেন।
কৃষক-কৃষাণীরা জানায়, এবার সরিষার ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম থাকায় তারা অনেক খুশি। সরিষা চাষে অনেক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা দরে।
দাসপাড়া গ্রামের কৃষক রিপন বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। এখন ক্ষেত থেকে সরিষা তুলে বাড়িতে এনে মাড়াই করছি। আশা করছি লাভবান হবো।’
একই গ্রামের কৃষক নছরউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সরিষা কাটা শেষ করেছি। রোদে শুকিয়ে তা মাড়াই করব।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
বারি সরিষা ১৪, বারি সরিষা ১৭, বিনা সরিষা ৯ ও টরি-৭ জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষককে অধিক ফলন পেতে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষি প্রণোদনায় সার ও বীজ সঠিক সময়ে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। তাই এ বছর উৎপাদন ও দামে কৃষকদের সন্তুষ্টি দেখে তিনিও খুশি হয়েছেন।


