তজুমদ্দিনে পতিত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আমন ধান চাষের পরে এসব হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিগত বছরগুলোতে। কিন্তু এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে কৃষকরা পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হন।

হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন (ভোলা)

Location :

Bhola
তজুমদ্দিনে পতিত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন
তজুমদ্দিনে পতিত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন |নয়া দিগন্ত

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে মেঘনার বুকে জেগে উঠা নাগর পাটওয়ারীর চরসহ বিভিন্ন চরের পতিত জমি তরমুজ গাছে ভরে উঠেছে ফসলে। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। তজুমদ্দিনের সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চরসহ ক্ষেতগুলোতে তরমুজের ব্যাপক সমারোহ। আকার বড় ও ফলন ভালো হওয়ায় ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বাজারসহ নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আড়তগুলোতে তরমুজ বেচাকেনা জমে উঠায় কৃষক ভালো দাম পেয়ে খুশি।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আমন ধান চাষের পরে এসব হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিগত বছরগুলোতে। কিন্তু এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে কৃষকরা পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। যে কারণে কৃষি অফিসার ও উপ-সহকারী অফিসারদের দিকনির্দেশনায় কৃষকরা চারা রোপণের পর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটান। আগাছা দমন, পানি সেচ, সার ও ঔষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি রাত জেগে তরমুজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ২৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। যার মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ১০টি প্রদর্শনী রয়েছে। এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে।

সরজমিনে গিয়ে সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চর এলাকার কৃষক তছলিম মাঝি, মো: হান্নান ও সালাউদ্দিনের সাথে কথা বললে তারা জানান, এবার তাদের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আশা করছেন, রমজান মাসে তরমুজ কাটায় ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। ইতোমধ্যেই কিছু ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেক ভালো দামে বিক্রি করায় লাভ হয়েছে। তরমুজের ভালো ফলন এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে তারা অনেক খুশি।

তাদের মতো আরো কৃষকরা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরু থেকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় সার ও ঔষধের খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে।

তারা বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসার মো: ইব্রাহিম স্যার ও নুর কবির স্যার সারাক্ষণ আমাদের খোঁজ-খবর নিতেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তরমুজ ক্ষেতে পরিচর্যা করে ফলন ভালো হয়েছে। আর এতেই আমরা অনেক সন্তুষ্ট কৃষি অফিসের প্রতি। আশা করি, স্যাররা আগামী দিনেও আমাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে তজুমদ্দিন উপজেলাকে একটি কৃষিবান্ধব উপজেলায় পরিণত করবেন। এবারের কৃষি অফিসের যথাযথ পরামর্শ প্রদান করায় উচ্চ ফলন ও মানসম্মত তরমুজ বিক্রি চাষিদের জন্য আনন্দের এক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে।’

তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: ইব্রাহিম বলেন, ‘কৃষকরা ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভালো দাম ও অনুকূল পরিবেশ- এই দু’টি বিষয় খেয়াল রাখেন। এ বছর দাম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরকারি সহযোগিতা ও আমাদের পরামর্শে স্থানীয় কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে চাষ করেন। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের দামে কৃষক অনেক লাভবান। যদি আরো একমাস অনুকূল আবহাওয়া পায়, তাহলে পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারবে। আর তাতে অনেক বেশি লাভবান হবেন কৃষকরা।’