সাটুরিয়ায় বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

ভোরের আলো ফুটতেই কোদাল, পাঁচন, দড়ি ও ধানের চারা নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ জমির আইল কাটছেন, কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি যাবর দিচ্ছেন, কেউ চারা উঠিয়ে মাঠে নিয়ে রোপণ করছেন।

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Manikganj
চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা
চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বোরো ধানের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভোরের আলো ফুটতেই কোদাল, পাঁচন, দড়ি ও ধানের চারা নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ জমির আইল কাটছেন, কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি যাবর দিচ্ছেন, কেউ চারা উঠিয়ে মাঠে নিয়ে রোপণ করছেন। বোরো মৌসুমের কৃষিতে ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভবনা বেশি, ফলে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কেউ জমি চাষ দিচ্ছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ চিকন রশি টাঙিয়ে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি করতে পারায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেচ পাম্পে যদি সময় মতো বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে পানির অভাবে বাম্পার ফলনে বড় হুমকি হতে পারে। অপর দিকে ডিজেলচালিত সেলো ইঞ্জিনের জন্য বাজারে পর্যাপ্ত তেল না থাকলে ক্ষতি সম্মুখীন হবেন কৃষকরা। তাই বোরো মৌসুমে চাষিরা বিদ্যুৎ, তেল ও সার সরবরাহ রাখার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছেন।

দড়গ্রাম ইউনিয়নের বিলতালুক গ্রামের কৃষক সাদেক আলী বলেন, ‘এবার ব্রি-২৯ জাতের ধান ৩৫ শতাংশ জমিতে রোপণ করছি। আগের মতো শীত অনুভূত না হওয়ায় কষ্ট কম হচ্ছে। তবে সময় মতো ধান না লাগাতে পারলে, পরে পানি আর সারের সমস্যা হয়। গতবারের চেয়ে এবার চারার মান বেশ ভালো। যদি সারের কোনো সঙ্কট না হয়, তবে আশা করছি এবার ঘরে ভালো ধান তুলতে পারব।’

বালিয়াটি ইউনিয়নের উত্তরকাউনারা গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, ‘এবার প্রায় তিন বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ জাতের ধান দোকান থেকে প্যাকেট কিনে চারা ফেলেছি। শ্রমিকরা চারা উঠাচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই চারা জমিতে রোপণ করব। এ মৌসুমের জন্য যত জাতের ধান আছে তার মধ্যে ব্রি-২৯ জাতের ধানে আমরা ভাল ফলন পাই।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে ব্রি ধান ২৯, ৫৮, ৮১, ৮২, ১০২, ১০৫ ও ব্রি ধান ১০৮ সহ উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমি। তবে এখন পর্যন্ত ৩১৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ব্রি ধান ১০০-এর ওপরের জাতগুলো নতুন। সেগুলো কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বোরো চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী।’